Aaj India Desk, বীরভূম : ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিউড়ির জনসভায় এক ঘটনাকে ঘিরে ফের প্রকাশ্যে এলো তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অন্দরের অস্বস্তি। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই প্রকাশ্যে বিরক্তি দেখাতে দেখা যায় বীরভূমের ‘বাঘ’ অনুব্রত মণ্ডলকে। ঘটনাটি সামনে আসতেই বীরভূমে দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে সমাজ মাধ্যমে।
সোমবার সিউড়ির জনসভায় বক্তৃতার ফাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্য নেতাদের সঙ্গে কথা বলার সময় অনুব্রত মণ্ডলকে ডাকেন। সেই সময় অনুব্রতকে হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ করতে এবং সরে যেতে দেখা যায়। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সমন্বয় বৈঠকেই অসন্তোষ?
সূত্রের দাবি, বীরভূমে তৃনমূল কংগ্রেসের (TMC) সংগঠনের ভিত মজবুত রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চেই একাধিক নির্দেশ দেন। বিশেষ করে কাজের ভাগাভাগি ও সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। তবে এই প্রস্তাবে অনুব্রত মণ্ডল সন্তুষ্ট ছিলেন না বলেই মনে করা হচ্ছে। তাঁর আচরণে সেই অসন্তোষ স্পষ্ট হয়েছে বলে দাবি দলের একাংশের।
দীর্ঘদিনের অনুব্রত-কাজল দ্বন্দ্বই এর মূলে ?
বীরভূম রাজনীতিতে অনুব্রত মণ্ডল এবং কাজল শেখের দ্বন্দ্ব নতুন নয়। অনুব্রতের অনুপস্থিতিতে কাজল শেখ জেলা পরিষদের সভাপতি হিসেবে প্রভাব বাড়ান। জেল থেকে ফেরার পর অনুব্রতকে জেলা সভাপতির পদে না ফিরিয়ে কোর কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। এরপর থেকেই দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। মাঝেমধ্যেই এঁদের প্রকাশ্যে একে অপরকে আক্রমণ করতেও দেখা গেছে। এই ঘটনায় তাঁদের দ্বন্দ্ব আরোও প্রকট হয়ে উঠে এসেছে।
দ্বন্দ্বের জের পড়বে ভোটের বাক্সে ?
নির্বাচনের আগে এই ধরনের প্রকাশ্য অস্বস্তি তৃণমূলের (TMC) জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। বিশেষ করে বীরভূমের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধ ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
দলীয় নেতৃত্ব বারবার সমন্বয়ের বার্তা দিলেও বাস্তবে সেই বার্তা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। সিউড়ির এই ঘটনা স্পষ্ট করেছে, বীরভূমে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখনো মেটেনি। ভোটের আগে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এখন তৃণমূলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


