Aaj lndia Desk,কলকাতা: সোমবার পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার তাদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta) – এর এই বাজেটকে নতুন সরকারের অর্থনৈতিক রোডম্যাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিল্প, পরিকাঠামো, কৃষি, পর্যটন, নগর উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে এই বাজেটে।
বাজেটে শিল্প বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য একাধিক বড় ঘোষণা করা হয়েছে। সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থা, শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন, লজিস্টিক হাব, ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর, ডেটা সেন্টার, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং গিগ ইকোনমির মতো আধুনিক ক্ষেত্রগুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে ৫,০০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
অনেকের মতে, এই বাজেটের মাধ্যমে সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তারা পশ্চিমবঙ্গকে শিল্পবান্ধব রাজ্যে পরিণত করতে চায়। তবে শুধুমাত্র ঘোষণা করলেই বিনিয়োগ আসে না। বিনিয়োগকারীরা দেখবেন রাজ্যে জমি পাওয়া কতটা সহজ, প্রশাসনিক অনুমোদন দ্রুত হচ্ছে কি না এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল।
অন্যদিকে সরকার সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিকেও গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে একদিকে উন্নয়নমূলক খরচ এবং অন্যদিকে জনকল্যাণমূলক ব্যয় দুই দিকই সামলানোর চেষ্টা দেখা গিয়েছে বাজেটে।
তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে অর্থের উৎস নিয়ে। এত বড় বড় প্রকল্প ও ঘোষণার জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ। সেই অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। বিরোধীদের দাবি, বাজেটে স্বপ্ন দেখানো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক রূপরেখা পরিষ্কার করা হয়নি।
সব মিলিয়ে, এই বাজেট পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যতের একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছবি তুলে ধরেছে। তবে আগামী এক থেকে দুই বছরে সরকার কতটা সফলভাবে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন করতে পারে, তার উপরই নির্ভর করবে এই বাজেটের প্রকৃত সাফল্য।


