Aaj India Desk, কলকাতা: বাংলায় সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি, জমি দখল এবং সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে এবার আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সরকার। নতুন একটি বিল (New Bill)-এর মাধ্যমে শুধু সমাজবিরোধীদেরই নয়, তাঁদের লুকিয়ে রাখা বা পালাতে সাহায্য করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব আনা হয়েছে।
সোমবার বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল’। এই বিল আইনে পরিণত হলে সমাজবিরোধী (Anti Social) কার্যকলাপ দমনে পুলিশ ও প্রশাসনের হাতে আরও বেশি ক্ষমতা থাকবে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি যদি জেনেশুনে কোনও চিহ্নিত অপরাধীকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন, লুকিয়ে রাখেন বা পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালাতে সাহায্য করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধেও ফৌজদারি মামলা হবে। দোষ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ দু’বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।
এই বিলে ‘গুন্ডা’ (Gunda) শব্দটিরও স্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ‘কেউ যদি একা বা কোনও গ্যাং, সিন্ডিকেট কিংবা দলের সদস্য হিসেবে নিয়মিত সমাজবিরোধী কাজে জড়িত থাকেন, তাহলে তাঁকে এই আইনের আওতায় আনা যাবে।’ অস্ত্র আইন, মাদক আইন, বিস্ফোরক আইন, অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইন কিংবা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার গুরুতর ধারায় অপরাধ বা অপরাধের চেষ্টা করলেও এই আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তোলাবাজি, বেআইনি জমি দখল, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো, ব্যবসায় বাধা সৃষ্টি, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, বেআইনি বালি-পাথরের কারবার এবং বনজ সম্পদ ধ্বংসের মতো অপরাধও এই আইনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই আইনের অধীনে সমস্ত অপরাধই কগনিজেবল ও নন-বেলেবল হবে। অর্থাৎ, পুলিশ কোনও ওয়ারেন্ট ছাড়াই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারবে এবং সহজে জামিনও পাওয়া যাবে না। এছাড়াও রাজ্য সরকার, পুলিশ কমিশনার, জেলা শাসক বা ডিআইজি যদি মনে করেন কোনও ব্যক্তি ভবিষ্যতে জননিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হতে পারেন, তাহলে তাঁকে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত আগাম আটক রাখার ক্ষমতাও থাকবে প্রশাসনের হাতে।
তবে এই ক্ষমতার অপব্যবহার রুখতে একটি উচ্চপর্যায়ের অ্যাডভাইজরি বোর্ড গঠন করা হবে। ওই বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকবেন হাইকোর্টের বর্তমান বা প্রাক্তন বিচারপতি। কাউকে আটক করার তিন সপ্তাহের মধ্যে মামলাটি বোর্ডের কাছে পাঠাতে হবে। বোর্ড যদি পর্যাপ্ত কারণ না পায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে হবে।
এছাড়াও সমাজবিরোধী কার্যকলাপের সন্দেহে পুলিশ যে কোনও জায়গায় তল্লাশি চালাতে পারবে। প্রয়োজনে ব্যক্তি বা যানবাহন থামিয়েও তল্লাশি করা যাবে। অপরাধে ব্যবহৃত বা বেআইনি উপায়ে অর্জিত টাকা, নথি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও দেওয়া হচ্ছে প্রশাসনকে।
নবান্নের দাবি, সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি ও জমি দখলের মতো সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বর্তমান আইন অনেক সময় যথেষ্ট কার্যকর হয় না। তাই বাংলাকে অপরাধমুক্ত করতেই এই নতুন আইন আনা হচ্ছে। যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রশাসনের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা চলে আসবে, যা ভবিষ্যতে অপব্যবহারের আশঙ্কাও তৈরি করতে পারে।


