Aaj India Desk, কলকাতা: চোরবাগান (Chorbagan Incident) সর্বজনীনের প্রতিমা নিরঞ্জন ঘিরে উঠে এল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। কোনও রকম বরণ ছাড়াই আজ প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়েছে। মণ্ডপ অক্ষত রাখার নির্দেশ থাকায় প্যান্ডেলের একটি অংশ কেটে প্রতিমা বাইরে বের করা হয়। দশমীর দিন শুধুমাত্র নিয়ম মেনে ঘট বিসর্জন হয়েছিল। প্রতিমার মুখে কোনওমতে সন্দেশ দেওয়ার পর গঙ্গার উদ্দেশে রওনা দেয় প্রতিমা।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনার তদন্তে পুজো কমিটির অনুমতিপত্র খতিয়ে দেখছে কলকাতা পুলিশ Kolkata Police)। পুজোর আগে কমিটির পক্ষ থেকে যে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল, তাতে কী কী ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছিল, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। অনুমতিপত্রে উল্লেখ করা বন্দোবস্তের সঙ্গে বাস্তবে মণ্ডপে থাকা ব্যবস্থার কোনও পার্থক্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। লালবাজার সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে অনুমতিপত্র চাওয়া হয়েছে।
এই তদন্তকারী দলের নেতৃত্বে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (স্পেশাল), ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট, আইপিএস শৈলজা দাস। এদিকে, চোরবাগানের দুর্ঘটনা নিয়ে ফরেন্সিক তদন্তেও উঠে এসেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ফরেন্সিক দলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মণ্ডপের VIP প্রবেশপথের চওড়া ছিল সাড়ে তিন ফুট। অন্যদিকে, সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশপথ ছিল সাড়ে চার ফুটের সামান্য বেশি। প্রবেশপথের মাপ এবং মণ্ডপের ভিতরে চলাচলের জায়গা বিচার করে ফরেন্সিক দলের অনুমান, সেখানে একসঙ্গে বড়জোর ১,৮০০ জন থাকতে পারতেন। অতিরিক্ত ভিড় হলে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ ২,৫০০-তে পৌঁছতে পারে। তবে দুর্ঘটনার সময় মণ্ডপের ভিতরে ঠিক কতজন ছিলেন, তা জানতে পুলিশের কাছে তথ্য চেয়েছে ফরেন্সিক দল।
ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের আরও অনুমান, মণ্ডপের ভিতরে থাকা ঢালু পথও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে। ঢালু জায়গায় সাধারণত মানুষ সাবধানে এবং ধীরে চলাফেরা করেন। কিন্তু অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে দ্রুত বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে গিয়ে দর্শনার্থীরা ওই ঢালু পথে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যেতে পারেন। প্রাথমিকভাবে এমনই সম্ভাবনা দেখছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। তবে ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছিল, তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে কলকাতা পুলিশ।


