Aaj India Desk,দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে শনিবারের রাজনৈতিক সভা থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সূর্যনগরে কালী প্রতিমাকে প্রিজন ভ্যানে নিয়ে যাওয়ার পুরনো ঘটনা সামনে এনে মমতাকে নিশানা করেন তিনি। পাশাপাশি, সুন্দরবনের উন্নয়ন, গঙ্গাসাগর মেলার পরিকাঠামো এবং পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।
সূর্যনগরের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা
২০২৫ সালে কাকদ্বীপের সূর্যনগরে কালী প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। সেই সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং পরে প্রতিমাটিকে প্রিজন ভ্যানে করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিক কোটেশ্বর রাওয়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
সেই ঘটনাকেই শনিবারের সভায় হাতিয়ার করেন শুভেন্দু। নাম না করে মমতাকে কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, গত বছর যে পরিস্থিতিতে মা কালীর প্রতিমাকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছিল, এ বছর মহালয়ার দিন দিল্লিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকেও প্রিজন ভ্যানে উঠতে হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সনাতনী শক্তির প্রভাব এবং মা কালীর অভিশাপেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অতীতে তাঁকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর পরে একসময় যাঁরা তাঁকে আক্রমণ করেছিলেন, তাঁরাই এখন তাঁকে স্বাগত জানাচ্ছেন।
সুন্দরবনের জন্য ১২০০ কোটি টাকার বরাদ্দ
এ দিনের সভায় উন্নয়ন নিয়েও একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর অভিযোগ, পূর্বতন সরকার সুন্দরবন এলাকার জন্য ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও বাস্তবে মাত্র ২০০ কোটি টাকার কাজ হয়েছিল। বাকি অর্থের বড় অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন যাচাই করা তথ্য সামনে নেই।
নতুন সরকার সুন্দরবনের উন্নয়নে ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর লক্ষ্য, গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এলাকার পরিকাঠামোর উন্নতি করা।
এফআইআর করার আহ্বান
সভা থেকে তৃণমূলের প্রাক্তন নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে নতুন করে এফআইআর করার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আশ্বাস, অভিযোগ জমা পড়লে পদক্ষেপ করা হবে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর যাঁদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদেরও ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।


