Aaj lndia Desk, মুম্বই: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬(FIFA World Cup2026)-এ মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আরও একটি বিষয় নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তা হল ফুটবলে ব্যক্তিপূজা। সম্প্রতি পর্তুগাল বনাম ডিআর কঙ্গো ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হলেও ম্যাচ-পরবর্তীতে অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে ছিল শুধুমাত্র ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, ম্যাচটি কি সত্যিই দুই দলের মধ্যে ছিল, নাকি তা পরিণত হয়েছিল একজন তারকার সাফল্য-ব্যর্থতার আলোচনায়? শুধু রোনাল্ডো নন, চলতি বিশ্বকাপে একই ছবি দেখা যাচ্ছে অন্যান্য বড় দলগুলির ক্ষেত্রেও।ফ্রান্সের ক্ষেত্রে কিলিয়ান এমবাপে, আর্জেন্তিনার ক্ষেত্রে লিওনেল মেসি (Lionel Messi), ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে হ্যারি কেন কিংবা নরওয়ের ক্ষেত্রে আর্লিং হলান্ডকেই আলোচনার কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। অথচ ফুটবল মূলত একটি দলগত খেলা, যেখানে গোলের নেপথ্যে থাকে একাধিক ফুটবলারের সম্মিলিত
অনেকের মতে, আধুনিক সম্প্রচার ব্যবস্থা ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব এই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। টেলিভিশন ক্যামেরা বারবার তারকাদের মুখে ফোকাস করছে, তাঁদের প্রতিক্রিয়া দেখানো হচ্ছে, এমনকি নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে অনুসরণ করার জন্য আলাদা ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমও হয়ে উঠেছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক যেখানে একটি ব্যক্তির গল্পকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এর ফলে আড়ালে চলে যাচ্ছেন দলের অন্যান্য সদস্যরা। রক্ষণভাগের নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স, মিডফিল্ডের পরিকল্পনা, পাস কিংবা কৌশলগত অবদান অনেক ক্ষেত্রেই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
অথচ ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপ কিংবা বড় টুর্নামেন্ট জেতা কখনও একক কোনও ফুটবলারের কৃতিত্ব নয়, বরং পুরো দলের সম্মিলিত সাফল্য।
ফুটবলের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে রয়েছে দলগত সমন্বয়, কৌশল এবং একে অপরের জন্য লড়াই করার মানসিকতায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে সেই গল্পের বদলে তারকাদের ঘিরে তৈরি হওয়া ব্যক্তিকেন্দ্রিক আখ্যানই বেশি প্রচার পাচ্ছে। ফলে চলতি বিশ্বকাপে দলের অবদানের চেয়ে ব্যক্তিপূজাই যেন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।


