Aaj India Desk, কলকাতা : কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (NRS) ডিউটির মধ্যেই ৩০ বছরের এক নার্সের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে। বুধবার রাতে গাইনি বিভাগের HDU-র কাছের শৌচাগার থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় রূপালি বর্মনকে। চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। এন্টালি থানার পুলিশ এবং DD-র হোমিসাইড শাখা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
ডিউটির মাঝেই নিখোঁজ
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২ অগস্ট রাত ৮টা থেকে নাইট শিফটে ডিউটিতে ছিলেন রূপালি। রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ HDU-র ৩৩ নম্বর ঘরের কাছে থাকা শৌচাগারে যান তিনি। প্রায় সাত মিনিট পরেও তিনি ফিরে না আসায় সহকর্মীরা খোঁজ শুরু করেন। ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনও সাড়া মেলেনি বলে দাবি হাসপাতাল সূত্রের।
ভিতর থেকে বন্ধ ছিল দরজা
সহকর্মীরা শৌচাগারের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। বারবার দরজায় ধাক্কা দেওয়া হলেও ভিতর থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত দরজা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হাসপাতালের দুই কর্মী মেহবুব আলম ও শ্রেয়া গায়েন দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন। সেখানেই রূপালিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
তড়িঘড়ি রূপালিকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে পরীক্ষা করার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল থেকেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে এন্টালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরে DD-র হোমিসাইড শাখার তদন্তকারীরাও হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে কোনও দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। কোনও সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়নি। তবে শুধু ঘটনাস্থলের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না পুলিশ। অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনও কারণ, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রূপালি বর্মন দমদম থানা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। স্বামীর সঙ্গে সেখানেই থাকতেন বলে জানা গিয়েছে। ডিউটিতে আসার আগে তাঁর আচরণ বা শারীরিক অবস্থায় কোনও অস্বাভাবিকতা দেখা গিয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।


