কলকাতা: হাসি-ঠাট্টা আর মজার কথায় যাঁকে দর্শক চেনেন ‘লাফটারসেন’ নামে, সেই নিরঞ্জন মণ্ডলের (Niranjan Mondal) মুখেই এবার শোনা গেল একেবারে অন্য গল্প। বিগ বস বাংলার (Bigg Boss Bangla) দুর্গে এতদিন যাঁকে দেখা গিয়েছে প্রাণবন্ত ও চনমনে মেজাজে, সোমবার রাতের পর্বে তাঁরই জীবনের এক অন্ধকার অধ্যায় সামনে এল।
কয়েক দিন আগে টাস্ক চলাকালীন জীতু কামালের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন নিরঞ্জন (Niranjan Mondal)। তাঁর দাবি ছিল, টাস্কের মাঝে জীতু তাঁর গোপনাঙ্গ স্পর্শ করেছেন। অভিযোগ ওঠার পরই তীব্র প্রতিবাদ করেন নিরঞ্জন। অন্যদিকে জীতু দাবি করেন, অভিযোগটি সত্যি নয়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে রাগের মাথায় জলের বোতল এবং একটি ফুলের টব ছুড়ে ফেলতেও দেখা যায় নিরঞ্জনকে।
ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল, টাস্কের উত্তেজনায় কি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফেলেছিলেন তিনি? ‘দাদার দরবার’-এও (Bigg Boss Bangla) বিষয়টি নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। কেউ কেউ মনে করেন, শারীরিক টাস্কে অনিচ্ছাকৃতভাবে স্পর্শ হওয়া অস্বাভাবিক নয়। আবার কারও প্রশ্ন ছিল, বিষয়টি কি প্রচারের আলোয় আসার কৌশল?
কিন্তু এবার সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নিজের জীবনের এমন এক অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিরঞ্জন, যা শুনে বদলে যেতে পারে গোটা ঘটনার প্রেক্ষাপট। ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিরঞ্জন (Niranjan Mondal) জানান, ছোটবেলায় তিনি একাধিকবার যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, প্রতিবাদ করার পর তাঁর অভিজ্ঞতাকেই নাকি প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল।
নিরঞ্জনের কথায়, “সবাই তো বলছে কেন আমি ওভার রিঅ্যাক্ট করলাম। আমি ছেলেবেলায় বহুবার যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছিলাম। যখনই প্রতিবাদ করেছি, আমাকে মিথ্যাবাদী বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান ঘটনার সময় জীতুর প্রতিক্রিয়াই তাঁর পুরনো স্মৃতিকে উসকে দেয়। নিরঞ্জন বলেন, “সেদিন যখন আমি প্রথম বললাম, জীতুদা যদি বলত ভুল করে লেগে গিয়েছে, তাহলে হয়তো এরকমটা হতো না। কিন্তু যখনই বলল আমি মিথ্যে বলছি, তাতে আমি ট্রিগার হয়েছি। ছোটবেলার স্মৃতি ফিরে এসেছে। আমি নিজেকে আটকাতে পারিনি।”
অর্থাৎ, শুধু টাস্কের মুহূর্তের রাগ নয়, নিরঞ্জনের (Niranjan Mondal) দাবি অনুযায়ী, সেই মুহূর্তে তাঁর পুরনো যন্ত্রণা এবং অবিশ্বাসের অভিজ্ঞতাও ফিরে এসেছিল। যে কারণে তাঁর প্রতিক্রিয়া এতটা তীব্র হয়ে ওঠে।
বিগ বসের (Bigg Boss Bangla) মতো ক্যামেরাবন্দি পরিবেশে প্রতিযোগিতার উত্তেজনা যেমন থাকে, তেমনই প্রতিযোগীদের ব্যক্তিগত আবেগও কখনও কখনও প্রকাশ্যে চলে আসে। নিরঞ্জনের এই স্বীকারোক্তি সেই দিকটিই সামনে আনল, একজন হাসিখুশি মানুষের আচরণের আড়ালেও যে বহু বছরের অদৃশ্য ক্ষত থাকতে পারে, তা মনে করিয়ে দিল এই ঘটনা।
তবে জীতুর বিরুদ্ধে নিরঞ্জনের অভিযোগ এবং সেই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। নিরঞ্জনের (Niranjan Mondal) সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তি তাঁর প্রতিক্রিয়ার ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছে; ঘটনাটির বিষয়ে চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করে না।
‘লাফটারসেন’-এর মুখে নিজের জীবনের এই কঠিন অধ্যায়ের কথা শুনে তাই এবার প্রশ্নটা শুধু, “কেন এতটা রেগে গিয়েছিলেন নিরঞ্জন?” নয়। বরং আরও বড় প্রশ্ন, কতটা পুরনো যন্ত্রণা হঠাৎ ফিরে এলে একজন মানুষ বর্তমানের একটি মুহূর্তে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারেন?


