কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) কোথায় যাচ্ছেন, কখন ফিরছেন, সব খবর না কি পৌঁছে যাচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে? ১৮০ জনের একটি বিশেষ WhatsApp গ্রুপ তৈরি করে মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে! এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিলেন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং।
অর্জুনের দাবি, অভিষেকের নির্দেশেই তৈরি হয়েছে এই বিশেষ গ্রুপ। মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) কখন কোথায় পৌঁছচ্ছেন, কখন বেরিয়ে আসছেন, প্রতিটি গতিবিধির খবর সেখানে আদানপ্রদান হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যেই এই নজরদারি। এমনকী অভিষেককে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিও তুলেছেন তিনি।
নোয়াপাড়ার বিধায়কের হুঁশিয়ারি, তাঁদের সরকার ডাবল ইঞ্জিন সরকার। তাঁর দাবি, অভিষেক বেশিদিন বাইরে ঘুরে বেড়াতে পারবেন না, খুব তাড়াতাড়ি তাঁকে জেলে যেতে হবে।
তবে অর্জুনের অভিযোগে বিন্দুমাত্র আমল দিতে নারাজ মমতাপন্থী তৃণমূল। দলের নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় পাল্টা অর্জুনের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। কখনও তৃণমূল, কখনও বিজেপি, অর্জুনের রাজনৈতিক দলবদলের ইতিহাস তুলে ধরে তাঁর বক্তব্য, এই অভিযোগের কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।
বৈশ্বানরের পাল্টা দাবি, অভিষেকের এমন WhatsApp গ্রুপ তৈরির কোনও প্রয়োজন নেই। মমতাপন্থী তৃণমূলকে বদনাম করতেই এই ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে একদিকে ১৮০ জনের রহস্যময় WhatsApp গ্রুপের অভিযোগ, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে পাল্টা আক্রমণ! তবে মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) উপর নজরদারি বা তাঁকে টার্গেট করার অভিযোগের সমর্থনে এখনও কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। পুলিশের তরফেও কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসেনি।
প্রশ্ন উঠছে, সত্যিই কি মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি নিয়ে নজরদারি চলছে, নাকি ভোট-পরবর্তী বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের অস্ত্র এই ১৮০ জনের WhatsApp গ্রুপ?


