Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে সদ্য NCPI-তে যোগ দিয়েছেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই নিজের পুরনো দলেরই বর্ষীয়ান সাংসদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিলেন তিনি। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দ্বারস্থ হয়ে তৃনমূল কংগ্রেসের এক সংসদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন কাকলি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সেই সাংসদকে কঠোর শাস্তি, এমনকি প্রয়োজনে লোকসভা থেকে বহিষ্কারের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
কার বিরুদ্ধে অভিযোগ ?
স্পিকারকে পাঠানো চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar) অভিযোগ করেছেন তৃনমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তিনি লিখিত অভিযোগ জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে এবং অন্যান্য মহিলা সাংসদদের উদ্দেশে অসম্মানজনক ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরও জানিয়েছেন, বিষয়টি কোনও একক ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর দাবি, একাধিকবার তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়েছেন এবং রাজনৈতিক মতভেদের বাইরে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষী ও অপমানজনক মন্তব্য করা হয়েছে।
কাকলির মতে, এই ধরনের আচরণ শুধু ব্যক্তিগত মর্যাদাহানির বিষয় নয়, বরং সংসদের পরিবেশকেও প্রভাবিত করছে। এতে মহিলা সাংসদদের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে এবং সংসদীয় আলোচনায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
স্পিকারের কাছে কী দাবি?
চিঠিতে কাকলি (Kakoli Ghosh Dastidar) বলেন, একজন সাংসদের কাছ থেকে যে সংযম, শালীনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত, কল্যাণের আচরণ তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাঁর দাবি, কল্যাণের এ ধরনের মন্তব্য লোকসভার মর্যাদা ও সংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী। সেই কারণেই তিনি স্পিকারের কাছে দ্রুত ও উপযুক্ত পদক্ষেপের আর্জি জানিয়ে প্রয়োজনে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এই নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, “যা করেছে, করেছে। স্পিকার কোনও পদক্ষেপ যদি নেন, তখন দেখা যাবে।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২৮ মেও কাকলি ঘোষ দস্তিদার একই ধরনের অভিযোগ তুলে স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষী মনোভাবের অভিযোগ আনেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কল্যাণ কাকলির রাজনৈতিক অবস্থান এবং অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
তৃণমূলের একাধিক সাংসদের দলত্যাগ, সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস এবং দলের পরিচিত মুখেদের মধ্যে প্রকাশ্য সংঘাত এই সমস্ত ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই কাকলির নতুন অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্পিকার এই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


