Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: ডিজিটাল শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল তামিলনাড়ু সরকার। রাজ্যের বাজেটে সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত (Aided) কলেজে পড়ুয়া স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ল্যাপটপ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে লক্ষাধিক ছাত্রছাত্রী উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে আলাদা করে আর্থিক বরাদ্দও রাখা হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুধুমাত্র একটি ল্যাপটপ দেওয়াই নয়, পড়াশোনার উপযোগী প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার, সরকারি ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্মের অ্যাক্সেস এবং সাইবার সুরক্ষার বিভিন্ন ব্যবস্থা আগে থেকেই ডিভাইসে সংযুক্ত থাকবে। ফলে শিক্ষার্থীরা সহজেই অনলাইন ক্লাস, ডিজিটাল স্টাডি ম্যাটেরিয়াল এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক পরিষেবা ব্যবহার করতে পারবেন।
বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডেটা সায়েন্স, কোডিং এবং অনলাইন শিক্ষার গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বহু গ্রামীণ ও মফস্বলের শিক্ষার্থী এখনও ব্যক্তিগত ল্যাপটপের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সরকারের এই উদ্যোগ সেই ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। এর মাধ্যমে পড়ুয়ারা আন্তর্জাতিক মানের অনলাইন কোর্স, গবেষণামূলক কাজ এবং নতুন প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে শহরের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমানভাবে প্রতিযোগিতা করার ক্ষেত্রও তৈরি হবে।
এই ঘোষণাকে শিক্ষা মহল এবং ছাত্রসমাজ ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে। তরুণ প্রজন্মের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার যে ডিজিটাল শিক্ষার প্রসারে জোর দিচ্ছে, এই প্রকল্প তারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে প্রকল্পের সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত ল্যাপটপ বিতরণ, বিক্রয়োত্তর প্রযুক্তিগত সহায়তা, পাশাপাশি কলেজগুলিতে দ্রুতগতির Wi-Fi ও ইন্টারনেট পরিষেবা নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি।
সব মিলিয়ে, বিনামূল্যে ল্যাপটপ বিতরণের এই সিদ্ধান্তকে শুধুমাত্র একটি কল্যাণমূলক প্রকল্প নয়, বরং উচ্চশিক্ষাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সফল বাস্তবায়ন হলে এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য রাজ্যের কাছেও একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে উঠতে পারে।


