Aaj India Desk, কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর একে একে দল ও শিবির বদলেছেন বহু তৃনমূল নেতা নেত্রী। এদের সাথেই তৃনমূল ছেড়ে সরাসরি বিজেপি সমর্থনকারী এনসিপিআইতে যোগ দেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Rachana Banerjee)। কিন্তু তারপর থেকেই সমাজ মাধ্যমে তাঁকে বিশ্বাসঘাতক তকমা দিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সেই বিতর্কের জবাব দিতেই এবার স্বাধীনতা দিবসে চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগের ‘ভারতমাতা পুজো’য় যোগ দিয়ে দলবদলের কারণ নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য রাখলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রচনার (Rachana Banerjee) কথায়, “বিজেপি না জিতলে আমি তৃণমূলেই থাকতাম।” তাঁর দাবি, তিনি অনেক কাজ করেছেন এবং সাংসদ হিসেবে এখনও তাঁর তিন বছর মেয়াদ রয়েছে। তাই আগামী দিনেও তিনি মানুষের ভালোর জন্য কাজ করতে চান। রচনা বলেন, “আমি বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম বুঝি না। আমি শুধু মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।”
সাংসদ হিসেবে নিজের কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি জানান, সাংসদ হওয়ার পর প্রথম দিকে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে তিনি নানা সমস্যার মুখে পড়েছেন। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে কেন্দ্রের ‘বঞ্চনা’র কথা বলতেন বলে জানান তিনি। রচনার (Rachana Banerjee) কথায়, “আমি অনেক মানুষের কাছে গিয়েছি। বালাগড়ে নদীভাঙন থেকে রেলের সমস্যা, সব সমাধানের চেষ্টা করেছি।” কিন্তু তাঁর মতে, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে টানাপোড়েনের অবসান ঘটাতে রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রয়োজন। না হলে উন্নয়ন কার্যত কঠিন হয়ে পড়ে বলে দাবি তাঁর। তাই এবার রাজ্যে বিজেপি সরকার আসায় তিনি দল বদল করে মানুষের উন্নয়নের জন্যেই বিজেপি নেতাদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে চান।
দলবদলের পাশাপাশি নিজের পুরনো ‘উরবানা’ মন্তব্য নিয়েও মুখ খোলেন রচনা। তাঁর দাবি, এক সাংসদের আক্রমণের জবাব দিতে গিয়ে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। রচনা বলেন, তিনি জীবনের প্রথমদিকে ছোট্ট একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। বাবা-মাকে নিয়ে উরবানায় থাকার স্বপ্ন ছিল তাঁর। পরে তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ হয়। তবে নিজের আগের মন্তব্য নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এখন মনে হয়, উরবানা নিয়ে মন্তব্যটা না করলেই ভালো হত।”
শনিবার ‘উরবানা’ মন্তব্য নিয়ে আক্ষেপ থেকে দলবদলের কারণ নিয়ে খোলামেলা ব্যাখ্যায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন হুগলির সাংসদ। তবে রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, ধারাবাহিক বিতর্কের জেরেই সুর বদলেছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই মন্তব্য নিছক আত্মপক্ষসমর্থন, নাকি রাজনৈতিক বিতর্ক সামলে নতুন করে জনসমর্থন আদায়ের কৌশল, তা নিয়ে চলছে জল্পনা।


