Aaj India Desk, মুর্শিদাবাদ: ক্ষোভ ও দীর্ঘ নীরবতার পর চোখের জল ফেলে দুঃখ প্রকাশ করে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকেই প্রশ্নচিহ্নের মুখে এনে দাঁড় করিয়ে দিলেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। রেজিনগরের উপনির্বাচনের দিন পুলিশের হাতে প্রায় ১২ ঘণ্টা আটক থাকার পর বুধবার বিধানসভায় আর পা না রাখার ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন কি না, সেই সিদ্ধান্তও এবার মানুষের হাতে ছেড়ে দিতে চান বলে জানান নওদার বিধায়ক।
মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচনের দিন পুলিশের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) আটক করা হয়। ভোট দেওয়ার পর তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তোলেন। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তাঁকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাতে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপরেই পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, রেজিনগরে গত দু’মাস ধরে সাধারণ মানুষ এবং তাঁর দলের কর্মীদের উপর পুলিশি হয়রানি চলছে। যদিও ভোটে অনিয়ম ও পুলিশি হস্তক্ষেপ নিয়ে বিরোধী দলগুলির অভিযোগগুলি শাসক বিজেপি প্রত্যাখ্যান করেছে।
এরপর বুধবার হুমায়ুন (Humayun Kabir) বলেন, একজন পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন বিধায়ককে তুলে নিয়ে গিয়ে ১২ ঘণ্টা আটক করতে পারেন, এই ব্যবস্থার প্রতিবাদেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তিনি আর ‘পুলিশমন্ত্রীর’ অধীনে রাজনীতি করতে চান না। তাঁর কথায়, নিজের দলের কার্যালয় থেকেও তিনি নিরাপদ নন বলে মনে হয়েছে। সেই কারণেই বিধানসভা বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এমনকি তিনি যে স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলির সদস্য, সেই বৈঠকগুলিতেও উপস্থিত না থাকার কথা জানিয়েছেন। স্পিকারের ডাকা বৈঠক এবং সর্বদলীয় বৈঠকেও তিনি অংশ নেবেন না বলে দাবি করেছেন।
হুমায়ুনের বক্তব্য, নওদার মানুষ তাঁকে ভোট দিয়ে বিধায়ক করেছেন। তাই এলাকার মানুষের প্রতি তাঁর দায়িত্ব থাকবে। তবে বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও বিধানসভায় গিয়ে তিনি আর অংশ নেবেন না।তবে আপাতত পুরোপুরি রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেননি হুমায়ুন। তিনি জানিয়েছেন, সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানো এবং নওদার বিধায়ক পদ থেকেও ইস্তফা দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে শীঘ্রই সাধারণ মানুষের মতামত নেবেন।


