28.1 C
Kolkata
Monday, August 3, 2026
spot_img

হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে ফাঁস ‘হানিট্র্যাপ’-এর ছক!হামিম-অর্পিতাকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা STF-এর

Aaj India Desk, কলকাতা: বর্ধমানের রেনেসাঁ উপনগরী থেকে গ্রেফতার (Arrest) হওয়া হামিম মণ্ডলের (Hamim Mondal) কথিত জঙ্গি-যোগের তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ‘হানিট্র্যাপ’ ব্যবহার করে অপহরণের একটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করছে বেঙ্গল STF। এই মামলায় ঝাড়খণ্ড থেকে অর্পিতা সরকার (Arpita Sorkar) নামে এক তরুণীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে হামিম মণ্ডলকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে হামিম ও অর্পিতাকে মুখোমুখি বসিয়েও জেরা করেন তদন্তকারীরা। তদন্তে হামিমের মোবাইল থেকে অর্পিতার সঙ্গে হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট উদ্ধার হয়েছে। সেই চ্যাট ঘিরেই একাধিক প্রশ্ন করা হয় দু’জনকে। তদন্তকারীদের দাবি, হামিম একের পর এক ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ দিত এবং অর্পিতাকে ‘হানিট্র্যাপ’-এর কাজে ব্যবহার করে অপহরণের পরিকল্পনা করেছিল বলে সন্দেহ।

হামিমের মোবাইল থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা আরও জানতে চান, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা হত এবং কার কাছে বা কোন মাধ্যমে তা পাঠানো হত। নিউটাউনে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির উপর নজরদারির অভিযোগ নিয়েও হামিমকে প্রশ্ন করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে তাকে ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় রাখা হয়।

ইন্টেলিজেন্স ইনপুটে কী উঠে এল?

STF সূত্রে দাবি, প্রথমে তাদের কাছে তথ্য আসে যে হাওড়ার এক রাজনীতিকের কাছ থেকে তোলাবাজি এবং তাঁর ছেলেকে ‘হানিট্র্যাপ’-এ ফাঁসিয়ে অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনায় অর্পিতা সরকারকে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলেই সন্দেহ তদন্তকারীদের।

এই সূত্র ধরেই তদন্ত এগোতে গিয়ে সাহেবগঞ্জ থেকে পরিচালিত অর্পিতা সরকারের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহজনক অনলাইন কার্যকলাপের খোঁজ মেলে। এরপর শনিবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তকারীদের দাবি, হামিম অর্পিতাকে একটি মেসেজে জানিয়েছিল, সাহজাদ ভাট্টি গ্যাং অস্ত্র পাঠাতে রাজি হয়েছে। এছাড়াও জানা গিয়েছে, তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হত ডিসকর্ড অ্যাপের মাধ্যমে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, রাজ্য ও দেশের একাধিক রাজনৈতিক নেতা ওই গ্যাংয়ের সম্ভাব্য টার্গেটে ছিলেন।

এছাড়া তদন্তে উঠে এসেছে, অর্পিতা সরকারের সঙ্গে “আবিদ জাট333” এবং “হামাদ” নামে দুটি এক্স (X) হ্যান্ডল থেকে নিয়মিত যোগাযোগ করা হত। শনিবার STF-এর আইজি জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে অর্পিতার সরাসরি যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই চ্যাটগুলির বড় অংশই ‘হানিট্র্যাপ’ সংক্রান্ত ছিল। পুলিশ প্রাথমিকভাবে আবিদ জাট ও হামাদকে আইএসআই-যোগের সন্দেহভাজন হিসেবে দেখছে। পাশাপাশি সাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

অর্পিতার বিরুদ্ধে আর কী অভিযোগ?

তদন্তে জানা গিয়েছে, অর্পিতা সরকার একাধিক ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খুলেছিল। অভিযোগ, সেই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমেই বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হত। তদন্তকারীদের ধারণা, প্রথমে ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে টার্গেটের বিশ্বাস অর্জন করা হত, তারপর অপহরণ করে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র কার্যকর করার পরিকল্পনা ছিল। অর্পিতার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন এবং দুটি সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে। সেগুলিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

প্রাথমিক তদন্তে STF-এর অনুমান, এই চক্রের উদ্দেশ্য ছিল অস্ত্র সংগ্রহ, অপহরণ এবং খুনের মতো গুরুতর অপরাধ ঘটানো। তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তদন্ত এখনও চলছে এবং সমস্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন