Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: বিচারক নিয়োগে সরকারের ভূমিকা এবং বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হল জাতীয় রাজনীতিতে। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রাক্তন বিচারপতি সঞ্জয় কিশন কৌলের (Sanjay Kishan Kaul) অপ্রকাশিত আত্মজীবনীর কিছু অংশ সামনে আসতেই নরেন্দ্র মোদী সরকারের (Narendra Modi Government) বিরুদ্ধে সরব হয়েছে কংগ্রেস (Congress)। তাদের দাবি, দেশের সংবিধান রক্ষার দায়িত্বে থাকা সর্বোচ্চ আদালতকে সরকার এবং ক্ষমতাসীনদের প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা জরুরি।
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ (Jairam Ramesh) রবিবার একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন নিজের সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নেন। ‘উইদাউট ফিয়ার অর ফেভার’ (Without Fear or Favour) শীর্ষক বিচারপতি কৌলের আত্মজীবনীর প্রাক্প্রকাশিত পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধৃত ওই প্রতিবেদনে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের (D. Y. Chandrachud) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় চন্দ্রচূড় সরকারের প্রতি ‘অত্যধিক নমনীয়’ ছিলেন।
জয়রাম রমেশ তাঁর পোস্টে লেখেন, “সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি সঞ্জয় কিশন কৌলের এই বই মোদী সরকারের শাসনকালে বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর কিছু প্রশ্ন তুলে ধরেছে।”
বিচারপতি কৌলের বইয়ে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের চেষ্টা, সুপ্রিম কোর্টের কোলেজিয়াম (Collegium) বৈঠকের আগেই সরকারের অনুমোদন নেওয়ার প্রচেষ্টা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক বিচারকের জাতি বা বর্ণ নিয়ে সরকারের প্রশ্ন তোলার মতো বিষয় উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অতীতে যেসব বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকে দ্বিধায় থাকতেন, সেগুলিই বিচারপতি কৌল তাঁর লেখায় সংযত ও দায়িত্বশীল ভাষায় তুলে ধরেছেন বলে মন্তব্য করেছেন রমেশ।
এই বিতর্কে সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Abhishek Banerjee)। বিজেপিকে (BJP) নিশানা করে তিনি বলেন, “বিজেপি রাজনৈতিকভাবে ভারতকে ব্যর্থ করেছে। আর দেশের সুপ্রিম কোর্ট প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভারতকে ব্যর্থ করেছে। শেষেরটি সবচেয়ে গভীর প্রতারণা।”
বিচারপতি কৌলের আত্মজীবনী প্রকাশের আগেই তার কিছু বক্তব্য সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বইয়ের উদ্ধৃতিগুলি ঘিরে ওঠা অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই বিষয়টি মূল্যায়ন করা জরুরি।


