Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পুলিশের হেফাজতে থাকা অভিযুক্তদের উপরেই যদি হামলা হয়, তাহলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের ভূমিকা কী? কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court) সম্প্রতি এই ধরনের ঘটনা বন্ধ করতে কড়া নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু আদালতের নির্দেশের পরেও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সামনে অভিযুক্তদের মারধর করার অভিযোগ উঠছে। এবার এমনই একটি ঘটনা ঘটল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং (Canning) থানায়। তৃণমূল বিধায়ক পরেশ রাম দাসের বাড়ি থেকে গ্রেফতার হওয়া পাঁচজনকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। পাশাপাশি মারধর করারও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশ রাম দাসের বাড়িতে অভিযান চালায় বারুইপুর পুলিশ জেলার বিশাল বাহিনী। অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস। সেখান থেকেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের নাম অজয় দেবনাথ ওরফে তন্ময়, শিলাদিত্য রায়, দীপাঞ্জন অধিকারী, আরাফত দেওয়ান এবং রাজু পাণ্ডে। তাঁরা প্রত্যেকেই বিধায়কের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ধৃতদের মধ্যে শিলাদিত্য রায় ক্যানিং ১ নম্বর ব্লকের দিঘিরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান। অন্যদিকে, অজয় দেবনাথ ওরফে তন্ময় এলাকায় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত।
শনিবার এই পাঁচজনকে ক্যানিং থানা থেকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। সেই সময়ই থানা চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, একদল উত্তেজিত মানুষ তন্ময় দেবনাথকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে থাকেন। শুধু ডিম ছোড়াই নয়, পুলিশের সামনেই তন্ময়-সহ অন্য ধৃতদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। যদিও পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, তন্ময় দেবনাথের বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালে ক্যানিং থানায় ঢুকে পুলিশকর্মীদের উপর হামলা, থানায় ভাঙচুর, তোলাবাজি এবং এলাকায় দাদাগিরি করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছিল।
শনিবার ধৃত পাঁচজনকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁদের তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। এদিকে, থানা চত্বরে ধৃতদের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির কর্মী-সমর্থকরাই পুলিশের সামনে তাঁদের দলের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছেন। তাঁদের আরও দাবি, গোটা ঘটনা দেখেও পুলিশ কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করেনি। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাঁদের দাবি, ধৃত তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উপর হামলার ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই।
সব মিলিয়ে, কলকাতা হাইকোর্টের কড়া নির্দেশের পরেও পুলিশের হেফাজতে থাকা অভিযুক্তদের উপর কীভাবে হামলার ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটে, তাহলে অভিযুক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কতটা পালন করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নই এখন সামনে আসছে।


