Aaj India Desk, গান্ধীনগর: অনলাইনে অর্ডার (Online Order) করা জিনিস গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল তাঁর। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন না করে পার্সেল (Parcel) নিজেই চুর করার অভিযোগ উঠল এক ডেলিভারি এজেন্টের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যের জিনিসপত্র চুরি করেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত চুরি করা সামগ্রী বিক্রি করতে গিয়েই পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন অভিযুক্ত।
ঘটনাটি গুজরাতের সুরাত জেলার। ধৃত যুবকের নাম ঋতভিক মাকওয়ানা। তাঁর বয়স ২৬ বছর। তিনি ফ্লিপকার্টের ডেলিভারি এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। অভিযোগ, প্রায় ১৫ দিন আগে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁর হাতে আসা একাধিক পার্সেল সরিয়ে ফেলেন তিনি।
গত ২৩ অক্টোবর ভাবনগর জেলার লোকাল ক্রাইম ব্রাঞ্চের পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। পুলিশের কাছে খবর আসে, মোতিবাগ রোড এলাকায় এক যুবক কোনও বিল বা বৈধ নথি ছাড়াই দামি মোবাইল ফোন-সহ বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করার চেষ্টা করছেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছয়। ওই যুবকের কাছে জিনিসপত্রের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। এরপরই তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয় তাঁর কাছে থাকা সামগ্রীও।
পুলিশের জেরার মুখে অভিযুক্ত স্বীকার করেন, তিনি সুরাতে ফ্লিপকার্টের ডেলিভারি এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। সেই কাজের সূত্রেই গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আসা পার্সেলগুলি সরিয়ে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এরপর চুরি করা জিনিসপত্র নিয়ে তিনি সেখান থেকে চলে যান। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল মোট ১৩টি মোবাইল ফোন। তালিকায় ছিল গুগল পিক্সেল ১০, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ এফই, স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৩৬ ফাইভ জি এবং ভিভোর একাধিক মডেলের ফোন। ফলে শুধু মোবাইল ফোনগুলির মূল্যই ছিল যথেষ্ট বেশি।
এখানেই শেষ নয়। মোবাইল ফোনের পাশাপাশি স্মার্টওয়াচ, ব্লুটুথ ডিভাইস, জামাকাপড়, দামি পারফিউম এবং বিভিন্ন বৈদ্যুতিন সামগ্রীও চুরি করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকী ফেসওয়াশ ও টুথপেস্টের মতো নিত্যব্যবহার্য জিনিসও ছিল চুরি হওয়া সামগ্রীর তালিকায়।
পুলিশের দাবি, সব মিলিয়ে চুরি যাওয়া জিনিসপত্রের মূল্য সাড়ে ৪ লক্ষ টাকারও বেশি। বর্তমানে এই ঘটনার আরও তদন্ত চলছে। গ্রাহকদের হাতে পৌঁছনোর আগেই কীভাবে এতগুলি পার্সেল সরিয়ে নেওয়া হল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।


