Aaj India Desk, পূর্ব বর্ধমান: কালনার (Kalna) মিশনপাড়ার বাসিন্দা প্রমীলা শিকদার ও তাঁর পুত্রবধূ অপর্ণা শিকদার। পাঁচ বছর আগে তাঁদের মাথায় আসে একটি নতুন ব্যবসার (Business) ভাবনা। মিষ্টির দোকানে তালের ফুলুরি বিক্রি হতে দেখে তাঁরা বুঝতে পারেন, বাড়িতে তৈরি খাবারের চাহিদা রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই শুরু হয় নারকেল ও তিলের নাড়ু তৈরি করে বিক্রির কাজ। আর সেই ছোট্ট উদ্যোগই এখন বদলে দিয়েছে তাঁদের সংসারের ছবি।
প্রমীলা ও অপর্ণা দু’জনেই নাড়ু তৈরিতে দক্ষ ছিলেন। তাঁদের হাতের তৈরি নাড়ু খেয়ে প্রশংসা করতেন আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা। সেই অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। প্রথমে স্থানীয় বাজারের দোকানদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দোকানদাররা নাড়ু নিতে রাজি হওয়ায় শুরু হয় তাঁদের ব্যবসা। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে চাহিদা। এখন কালনার পাশাপাশি জিরাট, শান্তিপুর-সহ বিভিন্ন জায়গাতেও পৌঁছে যাচ্ছে তাঁদের তৈরি নাড়ু।
শুধু নারকেল ও তিলের নাড়ুই নয়, বর্তমানে চিঁড়ে ও মুড়ির মোয়াও তৈরি করছেন শাশুড়ি-বৌমা। সারা বছরই তাঁদের তৈরি খাবারের চাহিদা থাকে। তবে বিশ্বকর্মা পুজো থেকে রাসপূর্ণিমা পর্যন্ত বিক্রি অনেকটাই বেড়ে যায়। বিশেষ করে লক্ষ্মীপুজোর সময় কাজের চাপ থাকে সবচেয়ে বেশি। সেই কারণে এই সময়টায় প্রমীলা ও অপর্ণার ব্যস্ততাও বেড়ে যায় কয়েক গুণ।
এই ব্যবসায় শুধু প্রমীলা ও অপর্ণাই নন, যুক্ত হয়েছেন আরও কয়েকজন মহিলা। ফলে তাঁদের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও। অন্যদিকে, তৈরি করা নাড়ু ও মোয়া বিভিন্ন দোকানে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব সামলান প্রমীলার স্বামী খোকন শিকদার। একসময় আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে চলত সংসার। কিন্তু স্ত্রী ও পুত্রবধূর উদ্যোগে এখন সেই পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে।
প্রমীলা ও খোকনের ছেলে প্রদ্যুৎ শিকদার অবশ্য এই ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। তিনি কাজের সূত্রে ভিনরাজ্যে একটি হোটেলে থাকেন। তবে বাড়িতে থেকেই প্রমীলা ও অপর্ণার এই উদ্যোগ আজ তাঁদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছে। নিজেদের দক্ষতা, পরিশ্রম আর নতুন কিছু করার ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গী করেই পাঁচ বছরে ছোট্ট উদ্যোগকে বড় ব্যবসায় পরিণত করেছেন কালনার এই শাশুড়ি-বৌমা।


