Aaj India Desk, নয়াদিল্লি : ভারতে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক (Olympics) আয়োজনের লক্ষ্যে এখন থেকেই নতুন প্রজন্মের ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, অলিম্পিকের যে সব খেলায় ভারত এখনও অংশ নিতে পারে না বা যোগ্যতা অর্জন করতে পারে না, সেসব বিভাগে ভবিষ্যতের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে প্রতিভা খুঁজে স্কুলস্তর থেকেই প্রশিক্ষণ দেওয়ার উপর জোর দেন তিনি।
২০৩৬-এর জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি
ভারতের ২০৩৬ সালের অলিম্পিক (Olympics) আয়োজনের ইচ্ছার কথা ফের স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, শুধু অলিম্পিক আয়োজনের প্রস্তুতি নিলেই হবে না, দেশের খেলোয়াড়দেরও আরও বেশি সংখ্যক খেলায় প্রতিযোগিতা করার মতো তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, অলিম্পিকে প্রায় ৪০টি খেলা এবং ৩১৫ থেকে ৩৫০টি ইভেন্ট রয়েছে। কিন্তু এর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ খেলায় ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা অংশ নিতে পারেন না বা যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন না। এই ঘাটতি কাটাতেই এখন থেকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
প্রতিভা খুঁজে প্রশিক্ষণ দান
ভবিষ্যতের খেলোয়াড় তৈরিতে শিশুদের বয়সকেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০৩৬ সালের জন্য এখন থেকেই ৫, ১০ ও ১৫ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে প্রতিভা খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি। স্কুলের পাশাপাশি গ্রাম ও শহরেও প্রতিভা খোঁজার কর্মসূচি চালানোর কথা বলেন মোদী।
নজরে ‘জেন আলফা’
২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রজন্মকে সাধারণভাবে ‘জেনারেশন আলফা’ বলা হয়। ২০৩৬ সালে এই প্রজন্মই কিশোর হয়ে উঠবে। ফলে ভবিষ্যতের অলিম্পিক দল গড়তে এই প্রজন্মকে এখন থেকেই প্রস্তুত করার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, প্রতিভা চিহ্নিত করার পর শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না, আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও দিতে হবে। তবেই এই খেলোয়াড়রা ভবিষ্যতে দেশের হয়ে বড় মঞ্চে সাফল্য আনতে পারবেন।
উল্লেখ্য, ভারত ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপর ২০৩৬ সালের অলিম্পিকই দেশের অন্যতম বড় ক্রীড়া কর্মসূচি। ইতিমধ্যেই ভারত ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্বও নিতে চেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ২০৩৬ সালের আগেই দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং নতুন প্রতিভা খোঁজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।২০৩৬ সালে অলিম্পিক ভারতে হলে শুধু আয়োজক দেশ হিসেবে উপস্থিত থাকলেই চলবে না। আরও বেশি সংখ্যক খেলায় ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ এবং প্রতিযোগিতার মতো প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই স্কুল, গ্রাম ও শহর থেকে প্রতিভা খুঁজে এনে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরির উপর জোর দিয়েছেন মোদী।


