Aaj India Desk,নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan ) এর ছাত্রজীবনের একটি ঘটনা। কারণ, যে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তিনি প্রথম বড় রাজনৈতিক পরিচিতি পেয়েছিলেন, আজ সেই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরেই তাঁকে পড়তে হলো বিপাকে।
১৯৯৭ সালে ওড়িশায় কংগ্রেস সরকারের আমলে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে। তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জানকী বল্লভ পট্টনায়েক। ঘটনার প্রতিবাদে ভুবনেশ্বরে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে প্রায় ১,৫০০ ছাত্র বিক্ষোভে সামিল হন। সেই আন্দোলনের প্রথম সারিতে ছিলেন এবিভিপি নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)।
সেই সময় ধর্মেন্দ্র প্রধান উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ব বিভাগের ছাত্র। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে দু’বার এবিভিপি-র জাতীয় সম্পাদক হন। প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময়ও তিনি ওই পদেই ছিলেন। কিছুদিনের মধ্যেই বিজেপির রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের সেই সময়ের সহযোদ্ধা প্রশান্ত রাউথ, যিনি পরে ওড়িশার একটি কলেজের অধ্যক্ষ হন, এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন যে সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর শরীরের একাধিক হাড় ভেঙে গিয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। পাশাপাশি ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আগে প্রতিপক্ষের হামলারও শিকার হয়েছিলেন তিনি। সেই সময় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী।
এই আন্দোলনের পর থেকেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক পথচলা আরও দ্রুত এগোতে থাকে। পরে তিনি বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী, দক্ষতা উন্নয়ন মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলানোর পর দেশের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও পান।
তবে অনেকের মতে, যে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক উত্থানের অন্যতম ভিত্তি তৈরি করেছিল, আজ সেই একই ইস্যুই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই প্রায় তিন দশক আগের ওড়িশার সেই আন্দোলনের ঘটনাও ফের আলোচনার কেন্দ্রে।


