কলকাতা: একসময় সরকারি বাস চালিয়ে সংসার চলত। আর এখন তাঁর (Minar Mondal) নাম ঘিরেই তোলপাড় গোটা রাজ্য। দোতলা বাড়ির যেদিকে চোখ যায় শুধু আলমারি। তবে সেই আলমারিতে জামাকাপড় বা নথিপত্র নয়, ঠাসা নগদ টাকা! সঙ্গে ১৫ কেজি সোনা ও সোনার বিস্কুট। বীরভূমের মিনার মণ্ডলের (Minar Mondal) বাড়ি থেকে এই বিপুল সম্পত্তি উদ্ধারের পর তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে এক নতুন নাম, টুলু মণ্ডল, ওরফে শেখ নাজিমুদ্দিন।
বীরভূমের পাথর ব্যবসার জগতে টুলু মণ্ডল পরিচিত মুখ। আর পুলিশ সূত্রের দাবি, উদ্ধার হওয়া নগদ টাকা ও সোনার সঙ্গে তাঁর কথিত আর্থিক চক্রের যোগ থাকতে পারে। প্রাথমিক তদন্তে তদন্তকারীদের অনুমান, এই বিপুল অর্থ মিনার মণ্ডলের বাড়িতে রাখা হয়েছিল টুলু মণ্ডলের কথিত র্যাকেটের অংশ হিসেবেই। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে টুলু মণ্ডলের বক্তব্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন ধরেই টুলুর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল বলেও দাবি পুলিশ সূত্রের। সেই সূত্র ধরেই এখন সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যদের পাশাপাশি টুলু মণ্ডলকেও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনতে চাইছে বীরভূম জেলা পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, বিতর্কের সঙ্গে টুলু মণ্ডলের নাম এই প্রথম জড়াল না। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে নিউটাউনে ৫ কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনাতেও তাঁর নাম উঠে এসেছিল।
২০২২ সালে একটি খুনের মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং প্রায় এক মাস জেল হেফাজতেও ছিলেন। এছাড়া স্ত্রী ও মেয়ের নামে একাধিক সংস্থা খোলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁর আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায় এসেছিল। পুলিশ সূত্রের দাবি, টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা রয়েছে।
এখন প্রশ্ন একটাই, মিনার মণ্ডলের (Minar Mondal) বাড়িতে উদ্ধার হওয়া কোটি কোটি টাকা ও সোনার প্রকৃত মালিক কে? তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বীরভূমের এই ‘গুপ্তধন’ কাণ্ডে রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছেন টুলু মণ্ডল। আর সেই রহস্যের জট খুলতেই জোরকদমে চলছে তদন্ত।


