Aaj India Desk,মুম্বই: ফিফা বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। তবে এই ম্যাচ শুধু ফলাফলের জন্য নয়, মাঠজুড়ে বিতর্ক, প্ররোচনা ও রেফারিং নিয়েও আলোচনায় উঠে এসেছে।
প্রায় ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ভ্যাপসা গরমে শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলতে নামে প্যারাগুয়ে। টানা প্রায় ৭০ মিনিট ফ্রান্সকে আটকে রাখলেও ম্যাচের মাঝেই বারবার দেখা যায় ট্যাকটিকাল ফাউল, সময় নষ্ট এবং প্রতিপক্ষকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা। প্রথমার্ধে ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপেকে কনুই দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মাতিয়াস গালারজার বিরুদ্ধে। দ্বিতীয়ার্ধে মাইকেল ওলিসের জার্সি টেনে ধরার পর নিজেই মাটিতে পড়ে যান গালারজা। সেই ঘটনায় উল্টে ফরাসি ফুটবলার ওলিসেকেই হলুদ কার্ড দেখান উজবেক রেফারি ইলগিজ তান্তাশেভ।
এছাড়াও এমবাপে পেনাল্টি নিতে যাওয়ার সময় প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার গুস্তাভো ভেলাজকুয়েজ স্পট কিকের জায়গা নষ্ট করার চেষ্টা করেন। যদিও উসমান ডেম্বেলে পরিস্থিতি সামলে সতীর্থদের মনোবল ধরে রাখেন।
ম্যাচ শেষে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশঁ অভিযোগ করেন, প্যারাগুয়ে ফুটবলের সব ধরনের কৌশল ব্যবহার করেছে, এমনকি প্রতিপক্ষের বেঞ্চ থেকেও অশালীন মন্তব্য শোনা গিয়েছে। অন্যদিকে এমবাপে বলেন, “আমরা শুধু সুন্দর ফুটবল খেলতে জানি না, প্রয়োজন হলে কঠিন লড়াইও করতে পারি।”
রেফারির ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। পুরো ম্যাচে ফ্রান্স তিনটি হলুদ কার্ড পেলেও প্যারাগুয়ের কোনও ফুটবলার কার্ড দেখেননি। এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরাও। প্রাক্তন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জো হার্ট প্যারাগুয়ের খেলাকে “লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেন। জ্লাটান ইব্রাহিমোভিচের মতে, প্যারাগুয়ের অন্তত একজন ফুটবলারের লাল কার্ড দেখা উচিত ছিল। থিয়েরি অঁরি বলেন, “শেষ পর্যন্ত ফুটবলই জিতেছে।”
সব বিতর্কের মাঝেও ফ্রান্স মাথা ঠান্ডা রেখে নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করেছে। বদলি ফুটবলার রায়ান চেরকি জানান, দল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যোদ্ধার মতো খেলেছে। কঠিন পরিস্থিতিতেও মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ফরাসিরা।


