Aaj lndia Desk, কলকাতা: বড় কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়ে উদ্ধার অভিযানকে আরও দ্রুত এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ প্রশিক্ষিত এক বাহিনী, যার নাম ‘অর্জুন বাহিনী’ (Arjun Force)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই এই বাহিনী মাঠে নেমে কাজ শুরু করবে।
শহরের ঝুঁকি মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, কলকাতার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক বেআইনি নির্মাণ হয়েছে। ফলে কোথাও বিল্ডিং ধসে পড়া বা অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনও বিপর্যয় ঘটলে যাতে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয় সেই কারণেই প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি আরও শক্তিশালী ও আধুনিক একটি উদ্ধারকারী দল তৈরির প্রয়োজন।
নতুন বাহিনীকে সেই লক্ষ্যেই সাজানো হচ্ছে। বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আটকে পড়া মানুষকে দ্রুত বের করে আনা এবং উদ্ধারকারী দলের কাজকে আরও কার্যকর করাই হবে এই বাহিনীর অন্যতম উদ্দেশ্য।
তারাতলার ঘটনা বদলে দিল ভাবনা
তারাতলায় নির্মাণাধীন একটি গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনা রাজ্য প্রশাসনের সামনে বিপর্যয় মোকাবিলার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। দুর্ঘটনায় গোডাউনের ছাদ এবং ভারী লোহার কাঠামো ভেঙে পড়ে। বেশ কয়েকজন শ্রমিক ধ্বংসাবশেষের নীচে আটকে যান।
ঘটনার পর নির্মাণকাজের অনুমতি, পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। আগের সরকারের সময় নির্মাণ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও সামনে আসে।
ড্রোন থেকে গ্যাস কাটার, কাজে এসেছিল আধুনিক প্রযুক্তি
তারাতলার উদ্ধার অভিযানে একাধিক সংস্থা সমন্বয় করে কাজ করেছিল। এনডিআরএফের পাশাপাশি ভারতীয় সেনা, পুলিশ, দমকল এবং ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ উদ্ধারকাজে যুক্ত ছিল। ধ্বংসস্তূপের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ড্রোনের সাহায্য নেওয়া হয়। আটকে থাকা লোহার কাঠামো কেটে সরাতে ব্যবহার করা হয়েছিল গ্যাস কাটার। ভারী কংক্রিটও ধাপে ধাপে সরানো হয়েছিল।
সেই অভিজ্ঞতাই এবার নতুন বাহিনীর ভিত্তি
তারাতলার অভিযানে ব্যবহৃত আধুনিক উদ্ধার পদ্ধতিকে আরও বড় পরিসরে কাজে লাগাতে চাইছে রাজ্য। ‘অর্জুন বাহিনী’কে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা হবে। আগুন লাগা, বাড়ি বা কাঠামো ধসে পড়া কিংবা অন্যান্য বড় বিপর্যয়ের সময় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালানোই হবে বাহিনীর মূল লক্ষ্য। সেপ্টেম্বর থেকে বাহিনীটি কাজ শুরু করলে বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষেত্রে রাজ্যের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে বলে প্রশাসনের আশা।


