Aaj India Desk, কলকাতা: বিধানসভায় ১০ জন বিধায়কের সদস্যপদ বাতিলের দাবি ঘিরে আপাতত স্বস্তি পেলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)-সহ ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল’-এর বিধায়কেরা। তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chattopadhyay) যে আবেদন জমা দিয়েছিলেন, তা গ্রহণ করলেন না বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু (Rathindranath Basu)। বৃহস্পতিবার শুনানির পর এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে। তবে আবেদন বাতিল হওয়ায় অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়ে গেল, এমনটা নয়। নিয়ম মেনে নতুন করে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
নথি জমায় নিয়ম মানা হয়নি, জানালেন অধ্যক্ষ
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, বিপ্লব মিত্র, ফিরহাদ হাকিম, আখরুজ্জামান-সহ মোট ১০ জন বিধায়কের সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন শোভনদেব। ভারতীয় সংবিধানের দশম তফসিলের অধীনে দলত্যাগ বিরোধী বিধি প্রয়োগের আর্জি জানানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এই বিষয়টি নিয়ে শুনানি হয়। সেখানে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়।
ঋতব্রতদের আইনজীবীরা আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়া কাগজপত্রের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে নথিগুলি যাচাই করা হয়নি। অধ্যক্ষের নির্দেশেও একই ধরনের পদ্ধতিগত ত্রুটির উল্লেখ রয়েছে। নথিতে স্বাক্ষর থাকলেও নির্ধারিত নিয়মে সেগুলি যাচাই করা হয়নি বলে আবেদনটি খারিজ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর শুনানি
মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিষয়টির নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। সেই নির্দেশ মেনেই বৃহস্পতিবার শুনানির পর সিদ্ধান্ত জানান বিধানসভার অধ্যক্ষ।
শুনানিতে ঋতব্রত-সহ সংশ্লিষ্ট বিধায়কেরা এবং তাঁদের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিধানসভার প্রেস কর্নারে দাঁড়িয়ে ঋতব্রত জানান, তাঁদের ১০ জনের বিধায়ক পদ বাতিলের আবেদন করা হয়েছিল। শুনানিতে তাঁরা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
নতুন আবেদন ঘিরে জল্পনা
অধ্যক্ষের নির্দেশে জানানো হয়েছে, শোভনদেব চাইলে প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে ফের আবেদন করতে পারবেন। ফলে বর্তমান আবেদন খারিজ হলেও এই বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা থাকছে।
অন্যদিকে, সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁর অভিযোগ, একটি দলের প্রতীকে নির্বাচনে জিতে অন্য শিবিরে চলে যাওয়া বিধায়কদের সদস্যপদ বাতিল হওয়া উচিত। স্পিকারের সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক চাপানউতোর কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর।


