Aaj India Desk, কলকাতা: ডুরান্ড কাপ ফাইনালের তিক্ত স্মৃতি এবার অনেকটাই মুছে ফেলল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফের এক ডার্বির মহারণে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে IFA Shield-এর ট্রফি তুলে নিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। ফাইনালে ১-০ ব্যবধানে জিতে ২২তম বার এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতার খেতাব নিজেদের দখলে রাখল মোহনবাগান। ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে। গোলদাতা বসনিয়ার মিডফিল্ডার সামির জেলকোভিচ।
শুরুতে আক্রমণে লাল-হলুদ
ম্যাচের বাঁশি বাজার পর থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। বাঁ প্রান্ত দিয়ে এডমুন্ড বারবার উঠে এসে মোহনবাগানের রক্ষণে চাপ তৈরি করেন। অন্যদিকে ডান দিক থেকে বিপিন সিংয়ের ওঠানামাতেও বেশ কয়েকবার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু আক্রমণকে গোলের জায়গায় নিয়ে যেতে পারেনি লাল-হলুদ। বক্সের সামনে গিয়ে একের পর এক ভুল পাস এবং দুর্বল শটেই নষ্ট হয়েছে সম্ভাবনা।
ক্রমে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় মোহনবাগান। ২৩ মিনিটের মাথায় অভিষেক সিং টেকচামের ক্রস থেকে মেহতাব সিংয়ের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর ছাংতে ও সাহাল আব্দুল সামাদও গোলের সুযোগ তৈরি করেন। ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক ফুর্বা লাচেংপা একাধিকবার দলকে বিপদ থেকে বাঁচান।
বিরতির আগে জেলকোভিচের বাজিমাত
প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে অবশ্য আর রক্ষা হয়নি ইস্টবেঙ্গলের। সাহাল আব্দুল সামাদের বাড়ানো বল অসাধারণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঠান্ডা মাথায় জালে পাঠান জেলকোভিচ। তাঁর গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মোহনবাগান।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু আক্রমণভাগের সঙ্গে মাঝমাঠের বোঝাপড়ায় বারবার সমস্যা দেখা যায়। রামিরেজ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও মোহনবাগানের ডিফেন্স তা সামলে নেয়। মাঝমাঠে দ্রাজিচ ও সন্দীপ মান্ডির সংঘর্ষে দু’দলের উত্তেজনাও বাড়ে। চোটের কারণে দু’জনকেই মাঠ ছাড়তে হয়।
শেষদিকে ইস্টবেঙ্গলের জোলিনস্কির হেড দুর্দান্তভাবে আটকে দেন মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। পাল্টা আক্রমণে ছাংতের সামনেও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ এসেছিল, কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে সবুজ-মেরুন শিবির। ডুরান্ড ফাইনালের হারের পর এবার ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েই IFA Shield জিতে প্রতিশোধের মঞ্চ সম্পূর্ণ করল মোহনবাগান।


