Aaj India Desk, কলকাতা : তৃণমূলের অন্দরমহলে যেন শুরু হয়েছে লঙ্কার অগ্নিকাণ্ড। গতকালই নিউটাউনের এক হোটেলে মাত্র কয়েক মিনিটের বৈঠকে সভানেত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee)। সেই বৈঠকেই নতুন কমিটি গঠন করে তার সভাপতি করা হয় মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে। গঠিত হয় ৩০ সদস্যের ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটিও। এরপরেই অবশ্য সেই কমিটিতে উপস্থিত নেতাদের শোকজ নোটিশ পাঠানো হয় কালীঘাট থেকে। তবে সেই শোকজের জবাবের অপেক্ষা না করেই মঙ্গলবার বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
কারা রয়েছেন বহিষ্কৃতের তালিকায়?
প্রাথমিকভাবে যে নেতাদের বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায়, জাভেদ খান, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, সাবিনা ইয়াসমিন এবং স্নেহাশিস চক্রবর্তী। ভবিষ্যতে আরও কয়েকজনের নাম এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে। অর্থাৎ সোমবার রাতে যারা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরে যোগ দিয়েছেন, তাদেরকেই বহিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন কমিটিতে কী সিদ্ধান্ত ?
সোমবার নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত বিশেষ অধিবেশনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন জাতীয় কর্মসমিতি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও স্থান রাখা হয়নি। নতুন কাঠামোয় অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। দলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথিন ঘোষ এবং সাবিনা ইয়াসমিন। সাধারণ সম্পাদক করা হয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহাকে। এছাড়া রাজ্য কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে আখরুজ্জামান আনসারির নাম ঘোষণা করা হয়।
তৃণমূলের দুই শিবিরের এই প্রকাশ্য সংঘাত রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে। একদিকে কালীঘাটের নেতৃত্ব বহিষ্কারের পথে হাঁটছে, অন্যদিকে ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে নতুন সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলছে ঋতব্রত শিবির। আগামী দিনে এই সংঘাত শুধুমাত্র সাংগঠনিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি আরও বড় রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


