Aaj India Desk, মুর্শিদাবাদ : গত ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট মোটামুটি নির্বিঘ্নে হলেও মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বহরমপুরে ভোটদানকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর এজেন্টের উপর সরাসরি হামলা করা হয়। ভোটের পরই তিনি এই বিষয়ে সরব হয়েছিলেন এবং তৃনমূল কংগ্রেসকে দোষারোপ করেছিলেন। আজ শনিবার ফের তৃনমূলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি করলেন তিনি।
কী নিয়ে অভিযোগ জানালেন তিনি ?
অধীর চৌধুরী জানান, মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) যেসব আসনে কংগ্রেসের জয়ের সম্ভাবনা বেশি, সেখানে তৃনমূলের প্রচার সংস্থা আই-প্যাকের কর্মীরা অন্য পরিচয়ে যোগাযোগ করছে। তাঁর দাবি, তারা সরাসরি প্রার্থীদের বাড়িতেও যাচ্ছে এবং ফোনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলানোর চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, “I-PAC ভুয়ো পরিচয়ে কংগ্রেস প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রলোভন দেখাচ্ছে।” কংগ্রেস নেতার অভিযোগ, ওই সংস্থা বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দিয়ে প্রার্থীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আই-প্যাক বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনকে জানানোর নির্দেশ
অধীর চৌধুরী মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) কংগ্রেস কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, এমন কেউ যোগাযোগ করলে তাদের চিহ্নিত করে প্রশাসনকে জানাতে। তিনি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পরিবর্তে পুলিশ ও কমিশনকে খবর দেওয়ার উপর জোর দেন।
ভোটের পর চাপে তৃনমূল কংগ্রেস ?
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী গৌরী শঙ্কর ঘোষ। মুর্শিদাবাদের অন্যান্য কেন্দ্র যেমন শমসেরগঞ্জ, জলঙ্গি, নবগ্রাম, ভরতপুরে তৃনমূল কংগ্রেস জিতলেও শাসক দলের উপর এই কেন্দ্রটি পুনরুদ্ধার করার এবং অন্যান্য এলাকায় নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার স্বাভাবিক একটি চাপ যে রয়েছে তা অস্বীকার করা যায় না। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের জয়ের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই I-PAC কংগ্রেসের প্রার্থীদের প্রভাবিত করার এবং শাসক দলে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের।


