Aaj lndia Desk, হুগলি:ফুচকার নাম শুনলেই অনেকের মুখে জল চলে আসে। শহর থেকে গ্রাম সব জায়গাতেই এই জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুডের কদর রয়েছে। শুধু রাস্তার ধারে নয়, এখন বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানেও ফুচকার স্টল প্রায় অপরিহার্য। তবে সেই প্রিয় খাবার নিয়েই সামনে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। হুগলি জেলার খানাকুলে ফুচকার টকজলের নমুনা পরীক্ষায় মিলেছে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, যার জেরে চিন্তায় স্বাস্থ্যকর্তারা।
জানা গিয়েছে, সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে খানাকুল এলাকার বিভিন্ন ফুচকা বিক্রেতার কাছ থেকে টকজলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। স্থানীয় উদ্যোগে সেই নমুনাগুলি সরকারি পরীক্ষাগারে পাঠানো হলে রিপোর্টে দেখা যায়, অধিকাংশ নমুনাতেই বিপজ্জনক মাত্রায় ই-কোলাই (E. coli) এবং কলিফর্ম (Coliform) ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি রয়েছে। পরীক্ষার ভিত্তিতে ওই জলকে নিরাপদ নয় বলেই চিহ্নিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি ঠিকমতো না মানার কারণেই এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অপরিষ্কার হাতে আলু মাখা, একই হাতে টাকা নেওয়া ও খাবার পরিবেশন, টকজলের পাত্র দীর্ঘক্ষণ খোলা রাখা, অপরিষ্কার উপকরণ ব্যবহার এবং বর্ষার জল মিশে যাওয়ার মতো একাধিক কারণে ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
এই ধরনের দূষিত জল শরীরে প্রবেশ করলে ডায়রিয়া, বমি, পেটের সংক্রমণ, জ্বর, এমনকি গুরুতর শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। শিশু, প্রবীণ এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং টকজল তৈরিতে শুধুমাত্র মিনারেল ওয়াটার ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ফুচকা বিক্রেতাদের লাইসেন্সের আওতায় আনার বিষয়েও ভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন খানাকুলের বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, জীবিকার জন্য ব্যবসা করা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনওভাবেই আপস করা চলবে না।
অন্যদিকে, আরামবাগ হাইস্কুলের কাছে ফুচকা বিক্রি করা এক বিক্রেতার দাবি, তিনি সবসময় পরিষ্কার জল ব্যবহার করেন এবং তাঁর ফুচকা খেয়ে কোনও ক্রেতার অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ কখনও ওঠেনি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাস্তার খাবার খাওয়ার আগে অবশ্যই দোকানের পরিচ্ছন্নতা, ব্যবহৃত জলের মান এবং খাবার তৈরির পদ্ধতির দিকে নজর দেওয়া উচিত। সামান্য সচেতনতাই বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করতে পারে।


