Aaj India Desk, হাওড়া: বাংলার সরকার বদলের পর প্রশাসনের কাজকর্মেও বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। নতুন সরকার (New Government) দায়িত্ব নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নিয়মিত প্রশাসনিক বৈঠক করছেন এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখছেন। কেন্দ্রের সঙ্গেও রাজ্যের যোগাযোগ ও সমন্বয় আগের তুলনায় অনেক দ্রুত হচ্ছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি। এই পরিবর্তনের ছাপ এবার দেখা গেল নবান্নে (Nabanna)-এর রঙেও।
মঙ্গলবার থেকে নবান্ন সভাগৃহে গেরুয়া ও সাদা রঙের প্রলেপ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। যদিও পুরো নবান্ন ভবনকে নতুন রঙে সাজানোর জন্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও টেন্ডার বা দরপত্র ডাকা হয়নি। অতীতেও পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনিক ভবনকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কোনও রঙে সাজানোর প্রবণতা খুব একটা দেখা যায়নি। তবে ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি ভবন, সেতু, পার্ক এমনকি রাস্তার ডিভাইডারেও নীল-সাদা রঙের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়। অনেকের মতে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচিত নীল পাড় সাদা শাড়ির সঙ্গে মিল রেখেই এই রঙ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
এবার ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সেই নীল-সাদা রঙের জায়গা নিচ্ছে গেরুয়া-সাদা। তবে এই পরিবর্তন নিয়েও নানা মত রয়েছে। একাংশের মতে, নীল-সাদা রঙে সচিবালয়ের গাম্ভীর্য পুরোপুরি ফুটে উঠত না। আবার অন্যদের প্রশ্ন, গেরুয়া-সাদা রঙও কি একটি প্রশাসনিক ভবনের নিরপেক্ষ ও পেশাদার চেহারা তুলে ধরতে পারবে?
যদিও বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক ভবন হিসেবে নবান্নকে এমন রঙে সাজানো উচিত, যা কোনও রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং একটি আধুনিক, নিরপেক্ষ এবং গাম্ভীর্যপূর্ণ সচিবালয়ের পরিচয় বহন করবে। বর্তমানে সেই বিতর্কের মধ্যেই নবান্নে শুরু হয়েছে নতুন রঙের অধ্যায়।


