Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) জরুরি ভিত্তিতে মামলা তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতির (CJI) বেঞ্চে নতুন মামলা ‘মেনশনিং’ করার সময় ভার্চুয়াল লাইভ স্ট্রিমের অডিও (Audio) সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। ফলে আইনজীবীরা জরুরি শুনানির আবেদন করার সময় কী বলছেন বা তার জবাবে আদালত কী মৌখিক মন্তব্য করছে, তা আর সরাসরি শুনতে পারবেন না সাধারণ মানুষ বা সংবাদমাধ্যম।
কয়েক দিন আগেই প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, কোনও মামলাকে জরুরি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার আবেদন আদালতের বিচারিক শুনানির অংশ নয়, বরং এটি একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। তাই এই সময়ে হওয়া আলোচনা বা মৌখিক মন্তব্যকে সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা উচিত নয় বলেই আদালতের মত। সেই অবস্থান কার্যকর করতেই এই নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
কী এই ‘মেনশনিং’?
সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রথা রয়েছে, যেখানে কোনও মামলায় দ্রুত শুনানির প্রয়োজন হলে আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে ‘মেনশনিং’ করেন। এই সময় তাঁরা কেন মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে শোনা দরকার, তা আদালতের সামনে তুলে ধরেন। এরপর প্রধান বিচারপতি সিদ্ধান্ত নেন মামলাটি অবিলম্বে তালিকাভুক্ত হবে, নাকি পরে শুনানি হবে। এই সময় অনেক ক্ষেত্রেই আদালতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক মৌখিক পর্যবেক্ষণও করা হয়।
কেন নেওয়া হল এই সিদ্ধান্ত?
সাম্প্রতিক সময়ে বহু রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর মামলায় ‘মেনশনিং’-এর সময় আদালতের মৌখিক মন্তব্য এবং আইনজীবীদের বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হচ্ছিল। অথচ মামলার মূল শুনানি তখনও শুরু হয়নি। আদালতের মতে, এতে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে অপ্রয়োজনীয় আলোচনা তৈরি হতে পারে। সেই পরিস্থিতি এড়াতেই লাইভ স্ট্রিমের অডিও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভিডিও সম্প্রচার আগের মতোই চলবে। তবে ‘মেনশনিং’ চলাকালীন কোনও অডিও শোনা যাবে না। ফলে জরুরি শুনানির আবেদন সংক্রান্ত আলোচনা আর সরাসরি জনসমক্ষে আসবে না।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিল, জরুরি ভিত্তিতে মামলা তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া এবং মামলার প্রকৃত বিচারিক শুনানি এক বিষয় নয়। আদালতের মতে, ‘মেনশনিং’ সম্পূর্ণ প্রশাসনিক কাজ, তাই সেই অংশকে বিচারিক কার্যক্রমের মতো প্রকাশ্যে তুলে ধরা বা রিপোর্ট করা উচিত নয়।


