নয়াদিল্লি: কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এবার একজোট হয়ে লড়তে চলেছে ককরোচ জনতা পার্টি এবং কৃষক সংগঠন। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনে বিরতি দেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। মঙ্গলবার ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের (BKU) নেতা রাকেশ টিকায়েতের সঙ্গে বৈঠক করে সংগঠনটি জানিয়ে দিল, এবার শুধু ছাত্রদের দাবি নয়, কৃষক ও যুবসমাজের বিভিন্ন ইস্যুকেও আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে আনা হবে।
CJP-র মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কার দাবি, কেন্দ্র ও কয়েকটি রাজ্য সরকার ছাত্র আন্দোলনের সময় যে আশ্বাস দিয়েছিল, তার অনেকটাই এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। সংগঠনের অভিযোগ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে এখনও মামলা রয়েছে। রাজস্থানের মতো রাজ্যেও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নতুন করে FIR দায়ের করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছে তারা।
এই পরিস্থিতিতে রাকেশ টিকায়েতের সমর্থন চেয়েছে CJP। বৈঠকে আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহারের দাবি তোলা হয়। পাশাপাশি, সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না করলে কৃষক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন এবং যুব সংগঠনগুলিকে একত্রিত করে দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২০ জুলাই ককরোচদের ‘সংসদ চলো’ অভিযানে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ বাঁধে। সংসদের দিকে মিছিল এগোতে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এরপর সেই আন্দোলনের প্রভাব দেশের একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। প্রবল চাপে শনিবার ছাত্রদের দাবী মেনে নিয়ে পদত্যাগ করেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেইসঙ্গে সিজেপির সব দাবী মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেয় কেন্দ্র। কিন্তু আন্দোলনে যোগ দিয়ে গ্রেফতার হওয়াদের মুক্তি, নতুন করে এফআইআর দায়ের না করার দাবীতে লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও তা ভঙ্গ করে সরকার। এই অভিযোগে দেশজুড়ে আরও বড় আন্দোলনের ডাক দিয়েছে সিজেপি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, টিকায়েত-CJP বৈঠক ভবিষ্যতে ছাত্র, কৃষক ও যুব সংগঠনগুলির মধ্যে বৃহত্তর সমন্বয়ের ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এই বৈঠকের ফল কতটা বাস্তব রাজনৈতিক রূপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর।


