31.7 C
Kolkata
Sunday, July 26, 2026
spot_img

দু-বার নাকচ! তৃতীয়বারে কেন ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা মেনে নিল সরকার? সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

নয়াদিল্লি: ককরোচ-পড়ুয়াদের দেড় মাসের আন্দোলন (CJP Protest) সফলতা পেয়েছে শনিবার। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। তারপরই সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য! সরকারি সূত্রে খবর, NEET প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ছাত্রদের বিক্ষোভ চলাকালীনই প্রথমবার পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করার উদ্যোগে জোর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

সূত্রের দাবি, গত ২০ জুলাই অনুষ্ঠিত কেন্দ্রের শীর্ষ মন্ত্রীদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও ফের পদত্যাগের প্রস্তাব দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। কিন্তু সেবারও তাঁর (Dharmendra Pradhan) ইস্তফা নাকচ করে দেওয়া হয়। বরং শিক্ষা ক্ষেত্রে চলমান সংস্কার কর্মসূচির নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব তাঁকেই চালিয়ে যেতে বলা হয়। সরকারি সূত্রের দাবি, কেন্দ্রের শীর্ষ নেতৃত্বের মত ছিল, কোনও মন্ত্রীর পদত্যাগই সবচেয়ে সহজ পথ। সরকারের বিশ্বাস, দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার বদলে সমস্যার সমাধান করাই অগ্রাধিকার। সেই কারণেই প্রথম দু’বার ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) পদত্যাগের প্রস্তাব নাকচ করা হয়েছিল।

তবে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP)-র সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনার পর। সূত্রের দাবি, ওই সংগঠন ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির (CJP Protest) মতো আরও একটি বৃহৎ মিছিলের হুঁশিয়ারি দেয়। এরই মধ্যে ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে পুলিশের পদক্ষেপে কয়েকজন ছাত্র আহত হওয়ার ঘটনাও সরকারের উদ্বেগ বাড়ায়।

সরকারি সূত্র আরও দাবি করেছে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলির রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছিল যে, অশান্তির সুযোগ নিয়ে ‘দেশবিরোধী শক্তি’ আন্দোলনকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। ডিজিটাল নজরদারিতে ৪০০-রও বেশি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট আন্দোলনকে (CJP Protest) সক্রিয়ভাবে প্রচার করছে বলে চিহ্নিত হয়। এর মধ্যে প্রায় ১০০টি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পাকিস্তান থেকে পরিচালিত বলে সন্দেহ করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, এই অ্যাকাউন্টগুলির কয়েকটি এর আগেও ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় ভারতবিরোধী প্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে প্রচারে সক্রিয় ছিল।এছাড়া, সূত্রের দাবি, দিল্লি পুলিশের ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম ২০ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে যন্তর মন্তরের আশপাশে প্রায় ৪০০ জন অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ২০ জুলাইয়ের ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গেও যোগ থাকার সন্দেহ রয়েছে। যদিও এই আন্দোলনে পাক-চিন যোগ নিয়ে “আমাদের কাছে কোনও তথ্য নেই” বলে সাফ জানিয়ে দেয় বিদেশমন্ত্রক। তবে সূত্রের দাবী,

এই পরিস্থিতিতে, CJP-র সঙ্গে চূড়ান্ত দফার বৈঠকের আগে সরকারের মূল্যায়ন ছিল, জাতীয় স্বার্থ এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সূত্রের দাবি, যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং আন্দোলনের আরও বিস্তার রুখতেই ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। পরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করেন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রকের ভার দেওয়া হয়।

তবে উল্লেখ্য, এই সমস্ত তথ্য সরকারি সূত্রের দাবি। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন