Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস (NEET Paper Leak) ও অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে লাগাতার ছাত্র আন্দোলন এবং বিরোধীদের তীব্র চাপের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছেড়েছেন (Resigned) ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জনচাপ ও রাজনৈতিক চাপের জেরে পদত্যাগ করা তিনি দ্বিতীয় মন্ত্রী।
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ৬৭ জন মন্ত্রী মাঝপথে মন্ত্রিসভা ছেড়েছেন। তবে তাঁদের অধিকাংশের ক্ষেত্রেই কারণ ছিল প্রধানমন্ত্রী বা দলের আস্থাভঙ্গ, দায়িত্ব পালনে অসন্তোষ, অথবা রাজনৈতিক প্রয়োজন। জনচাপের মুখে নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগের ঘটনা খুবই কম।
এর আগে ২০১৮ সালে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর ‘মি টু’ আন্দোলনের সময় একাধিক প্রাক্তন নারী সাংবাদিকের যৌন হেনস্তার অভিযোগের মুখে মন্ত্রিত্ব ছাড়েন। সেই সময় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তেই তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হয়।
এদিকে, চলতি লোকসভা অধিবেশনের আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদলের পরিকল্পনা ছিল বলে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি। সেই তালিকায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের নামও ছিল। আলোচনা ছিল, তাঁকে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, কারণ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝির কাজকর্ম নিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় বলে জল্পনা চলছিল।
কিন্তু নিট কেলেঙ্কারিকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনা এখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়তে হওয়ায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের জন্য সম্ভাব্য বড় রাজনৈতিক দায়িত্ব আপাতত দূরে সরে গেল। একই সঙ্গে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝির অবস্থানও আপাতত আরও নিরাপদ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগেও মোদী সরকার একাধিকবার বড় মন্ত্রিসভা রদবদল করেছে। ২০২১ সালে ১২ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে সরিয়ে নতুন মুখ আনা হয়। সেই তালিকায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্ক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন এবং আইন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাম ছিল।
২০১৯ সালে বিতর্কিত কৃষি আইন নিয়ে মতবিরোধের জেরে এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে যায় শিরোমণি আকালি দল ও শিবসেনা। সেই সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেন হরসিমরত কৌর বাদল এবং অরবিন্দ সাওয়ন্ত।
এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে কিছু কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে রাজ্যপাল বা রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে পাঠানো হয়েছে। আবার মুক্তার আব্বাস নাকভি, আরসিপি সিং এবং জর্জ কুরিয়েনের মতো কয়েকজন মন্ত্রীকে রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি।
ভারতের রাজনীতিতে বড় রেল দুর্ঘটনার পর রেলমন্ত্রীর নৈতিক দায় নিয়ে পদত্যাগের নজির বহুবার দেখা গেছে। তবে মোদী সরকারের আমলে বড় রেল দুর্ঘটনা ঘটলেও কোনও রেলমন্ত্রী সেই দায় স্বীকার করে ইস্তফা দেননি। অন্যদিকে, বিভিন্ন ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। বিশেষ করে পহেলগাম হত্যাকাণ্ডের পর বিরোধীরা তাঁর ইস্তফা দাবি করলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সংসদে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে সওয়াল করেন এবং সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
ভারতের রাজনীতিতে নৈতিক দায়িত্বের প্রশ্নে অন্যতম আলোচিত উদাহরণ লালকৃষ্ণ আডবাণীর। হাওলা মামলায় নাম জড়ানোর পর তিনি স্বেচ্ছায় সাংসদ পদ ছেড়ে ঘোষণা করেছিলেন, নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদে ফিরবেন না। পরে আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তিনি পুনরায় সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে আসেন।


