Aaj India Desk, কলকাতা: শরৎকাল এলেও বৃষ্টির দাপট এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তার মধ্যেই পুজোর আগে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি (Dengue)। স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৮ হাজারে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি আরও চিন্তার হয়ে উঠেছে, কারণ মরসুমের শুরু থেকেই ডেঙ্গির সেরোটাইপ ২ (Dengue Serotype 2) এবং সেরোটাইপ ৩ (Dengue Serotype 3)-এর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
জোড়া সেরোটাইপে বাড়ছে উদ্বেগ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গি ভাইরাসের মোট চারটি সেরোটাইপ রয়েছে। ২০২৪ সালে রাজ্যে মূলত সেরোটাইপ ৩-এর (Serotype 3) দাপট দেখা গিয়েছিল। গত বছর তুলনায় বেশি প্রভাব ফেলেছিল সেরোটাইপ ২ (Serotype 2)। আর চলতি বছরে শুরু থেকেই দুই ধরনের সেরোটাইপের উপস্থিতি চিকিৎসকদের নজরে এসেছে।
চিকিৎসকদের মতে, চারটি সেরোটাইপের মধ্যে সেরোটাইপ ২ তুলনামূলক ভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এই সেরোটাইপে আক্রান্ত হলে ডেঙ্গি হেমারেজিক ফিভার (Dengue Hemorrhagic Fever) এবং ডেঙ্গি শক সিনড্রোম (Dengue Shock Syndrome)-এর মতো গুরুতর জটিলতার আশঙ্কা বাড়ে।
মুর্শিদাবাদে আক্রান্ত সবচেয়ে বেশি
রাজ্যের দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেই ডেঙ্গির প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে প্রথমে রয়েছে মুর্শিদাবাদ (Murshidabad)। দ্বিতীয় স্থানে কলকাতা (Kolkata)। এরপর রয়েছে নদিয়া (Nadia) এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা (South 24 Parganas)।
নদিয়ায় এক বছরে বাড়ল আক্রান্ত
নদিয়া (Nadia) জেলাতেও ডেঙ্গির পরিস্থিতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এই সময়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪১৯। চলতি বছরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০৫-এ।
ব্লকগুলির মধ্যে তেহট্ট-১ (Tehatta-I)-এ পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। সেখানে অন্তত ১৪১ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। রানাঘাট-২ (Ranaghat-II) ব্লকে আক্রান্ত ৫৬ জন। অন্যদিকে চাকদহ পুরসভা (Chakdaha Municipality) এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা ৭৫। গত কয়েক দিনে ডেঙ্গির উপসর্গ নিয়ে একাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে হাসপাতালগুলিতেও বাড়ছে রোগীর চাপ।
আগামী বছর বাজারে আসতে পারে ‘কিউ ডেঙ্গা’
ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্তের মধ্যেই কিছুটা স্বস্তির খবর দিচ্ছে ‘কিউ ডেঙ্গা’ (Qdenga Dengue Vaccine)। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)-এর তরফে জানানো হয়েছে, এই টিকার তৃতীয় দফার ট্রায়াল চলছে।
ICMR-এর DG রাজীব বহেল (Rajiv Bahl) জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফার ট্রায়ালের অর্ধেক রিপোর্ট ইতিমধ্যেই পাওয়া গিয়েছে এবং সেখানে ভাল ফল মিলেছে। তৃতীয় দফার ট্রায়ালের ফল ইতিবাচক হলে আগামী বছরই বাজারে আসতে পারে এই টিকা।
৪ থেকে ৬০ বছর বয়সিদের দেওয়া যাবে টিকা
জাপানের তাকেদা বায়ো ফার্মাসিউটিক্যালস (Takeda Pharmaceuticals) তৈরি করেছে কিউ ডেঙ্গা। ইতিমধ্যেই ভারতে বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (DCGI)। ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সিদের এই টিকা দেওয়া যাবে বলে জানা গিয়েছে।
প্রস্তুতকারী সংস্থার দাবি, ডেঙ্গির চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই সুরক্ষা দিতে সক্ষম এই ভ্যাকসিন। কলকাতাতেও কিউ ডেঙ্গার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে। ভারতে এই টিকার সম্ভাব্য দাম প্রায় ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।


