Aaj India Desk,মালদহ: বাড়িতে শৌচাগার তৈরির সামর্থ্য নেই এমন পরিবারের সংখ্যা এখনও কম নয়। বিশেষ করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা বহু পরিবারকে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে বাইরে যেতে হয়। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এবার বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে মালদহ জেলা প্রশাসন (Malda District Administration)। ‘নব দিশা (Naba Disha)’ নামের এই উদ্যোগে জেলার শৌচাগারহীন পরিবারগুলির জন্য বাড়িতেই শৌচাগার তৈরির ব্যবস্থা করা হবে।
সমীক্ষায় উঠে এসেছে বড় সংখ্যা
জেলা প্রশাসনের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মালদহে এখনও প্রায় ২৫ হাজার পরিবারের নিজস্ব শৌচাগার নেই। এই পরিবারগুলির মধ্যে আর্থিকভাবে দুর্বলদের চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শৌচাগার তৈরির জন্য উপভোক্তা পিছু ১২ হাজার টাকা সহায়তার ব্যবস্থা থাকছে।
তবে সাধারণ সরকারি অনুদানের মতো এই টাকা প্রথমেই সরাসরি উপভোক্তার হাতে দেওয়া হবে না। প্রশাসন এবার অন্য ধরনের আর্থিক মডেল ব্যবহার করছে। প্রথমে ঋণের মাধ্যমে নির্মাণকাজ শুরু হবে। পরে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে সরকারি সহায়তার টাকা মিললে সেই অর্থ ব্যবহার করেই ঋণ পরিশোধ করা যাবে।
স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে হবে কাজ
এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে স্বনির্ভর গোষ্ঠী (Self Help Group বা SHG)-গুলির। গোষ্ঠীর সদস্যরা সংঘ সমবায়ের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ব্যবস্থা করবেন। সেই অর্থে সংশ্লিষ্ট পরিবারের বাড়িতে শৌচাগার তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর শৌচাগারের ছবি সরকারি পোর্টালে আপলোড করতে হবে। কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে বলে প্রশাসনিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারি সহায়তার অর্থ পাঠানো হবে। ওই অর্থ ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ঋণ মেটানোর সুযোগ থাকবে।
কোথায় যোগাযোগ করবেন?
এই কর্মসূচির সুবিধা নিতে ইচ্ছুক পরিবারগুলি গ্রাম পঞ্চায়েত (Gram Panchayat), গ্রাম উন্নয়ন ভবন (Gram Unnayan Bhavan) অথবা ব্লক অফিসে (Block Office) যোগাযোগ করতে পারবেন। সেখানে প্রকল্পের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
সম্প্রতি হবিবপুরের জিতু মঞ্চে (Jitu Mancha, Habibpur) ‘আমার শৌচাগার আমার গর্ব, স্বাস্থ্যকর গ্রাম সমৃদ্ধ সমাজ’ বার্তাকে সামনে রেখে ‘নব দিশা’ কর্মসূচির সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মু (Joel Murmu) উপস্থিত ছিলেন। কয়েকজন উপভোক্তাকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে ১২ হাজার টাকার ঋণের চেকও দেওয়া হয়।
মার্চের মধ্যে লক্ষ্য ২৫,৭৮৭
প্রশাসনের নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের মার্চের মধ্যে মোট ২৫,৭৮৭টি শৌচাগার তৈরির লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। পুরো কাজটি তিনটি পর্যায়ে করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৮,৫০০ জন উপভোক্তা এই সুবিধা পাবেন।
প্রশাসনের আশা, ধাপে ধাপে জেলার বাকি শৌচাগারহীন পরিবারগুলিকেও এই কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে। এর ফলে শুধু শৌচাগারের অভাবই মিটবে না, গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার পরিবেশও আরও উন্নত হবে।


