পশ্চিম মেদিনীপুর: একের পর এক পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুতে বারবার শিরোনামে উঠে এসেছে আইআইটি খড়গপুর (IIT Kharagpur)। তার মধ্যেই ফের চাঞ্চল্যকর ছাত্রমৃত্যু। বৃহস্পতিবার আইআইটি খড়গপুরের নালন্দা কমপ্লেক্সের তিনতলা থেকে পড়ে মৃত্যু হল মেকানিক্যাল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র অঙ্কিত শর্মার। কীভাবে তিনি তিনতলায় উঠলেন, কীভাবেই বা পড়ে গেলেন? ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ক্লাস করতে যাওয়ার সময় কোনওভাবে তিনতলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন অঙ্কিত। তাঁকে দ্রুত আইআইটি (IIT Kharagpur) ক্যাম্পাসের বিসি রায় টেকনোলজি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্য ছড়ায়। তদন্তে নেমেছে খড়গপুর টাউন থানার হিজলি ফাঁড়ির পুলিশ। অঙ্কিত কখন কোথা থেকে বেরিয়েছিলেন, কীভাবে নালন্দা কমপ্লেক্সের তিনতলায় পৌঁছলেন, সেখানে তাঁর যাওয়ার কারণই বা কী? সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সিসিটিভি ফুটেজই এখন তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠতে পারে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, ক্লাস করতে যাওয়ার পথে একজন পড়ুয়া হঠাৎ তিনতলার জায়গায় পৌঁছলেন কীভাবে? দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ? আপাতত সেই উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
এই ঘটনার মধ্যেই ফের সামনে এসেছে আইআইটি খড়গপুরের (IIT Kharagpur) গত বছরের পরিসংখ্যান। ২০২৫ সালে ক্যাম্পাসে সাত পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা যায়। তাঁদের মধ্যে একাধিক পড়ুয়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। ১২ জানুয়ারি শোয়ান মালিক, ২১ এপ্রিল অনিকেত ওয়ালকর, ৪ মে মহম্মদ আসিফ কামার, ১৮ জুলাই ঋতম মণ্ডল, ২২ জুলাই চন্দ্রদীপ পওয়ার, ২০ সেপ্টেম্বর হর্ষকুমার পাণ্ডের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। ৭ ডিসেম্বর পুরী রেলগেট থেকে উদ্ধার হয় ভট্টরাম শরণ কুমারের দেহ।
শুধু পড়ুয়া নয়, জুলাইয়ের শেষেই আইআইটি খড়গপুর (IIT Kharagpur) ক্যাম্পাস থেকে উদ্ধার হয়েছিল সহকারী অধ্যাপক দীপক রেড্ডি পুল্লাগুরামের দেহ। ৩৫ বছরের ওই অধ্যাপক ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ফলে বৃহস্পতিবারের অঙ্কিত শর্মার মৃত্যু ফের উসকে দিয়েছে পুরনো আতঙ্ক। কেন বারবার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে? ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও পড়ুয়াদের মানসিক চাপ নিয়ে কি আরও গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে? তদন্ত এগোলেই মিলতে পারে সেই সব প্রশ্নের উত্তর।
তবে এই মুহূর্তে অঙ্কিতের মৃত্যুর কারণ নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়নি। পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই নজর এখন।


