Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: নিট প্রশ্নফাঁস (NEET Paper Leak) বিতর্ককে ঘিরে বৃহস্পতিবারও উত্তপ্ত থাকল সংসদ। বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভ ও হট্টগোলের জেরে বারবার লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি করতে হয়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju) বড় বার্তা দেন। তিনি বলেন, নিট ইস্যুতে আলোচনা করতে সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত। বিরোধীরা যে দিন, যে সময় এবং যতক্ষণ আলোচনা করতে চান, সরকার তাতেই রাজি। তবে কোনও শর্ত দিয়ে আলোচনা আটকে রাখা যাবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।
এদিন সকালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi) ঘোষণা করেন, নিট প্রশ্নফাঁস মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে। তিনি বলেন, দেশের পড়ুয়াদের নিরাপদ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনটি দাবি তুলে ধরেন। প্রথমত, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদ থেকে সরাতে হবে। দ্বিতীয়ত, যেসব ছাত্রছাত্রী এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের কাছে সরকারের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত। তৃতীয়ত, ছাত্রছাত্রীদের উপর হামলা বা হেনস্থার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিরোধীদের বিক্ষোভের কারণে বৃহস্পতিবারও লোকসভার কাজ স্বাভাবিকভাবে চলতে পারেনি। প্রথমে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এবং পরে বেলা ২টো পর্যন্ত অধিবেশন স্থগিত রাখতে বাধ্য হন স্পিকার ওম বিড়লা।
দ্বিতীয়বার অধিবেশন মুলতুবি হওয়ার আগে কিরেন রিজিজু জানান, এই বিষয় নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে সরকারপক্ষের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার আলোচনার জন্য সবসময় প্রস্তুত। বিরোধীরা যেভাবে আলোচনা করতে চান, সরকার সেই প্রস্তাব মেনে নেবে। কিন্তু আগে থেকে কোনও শর্ত চাপানো ঠিক নয়। তাঁর দাবি, যদি বিরোধীরা শর্তের অজুহাতে আলোচনা এড়িয়ে যান, তাহলে দেশের মানুষ বুঝতে পারবেন যে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সত্যিই আলোচনা করতে আগ্রহী নন।
সংসদের ভিতরের পাশাপাশি বাইরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও ছিল চোখে পড়ার মতো। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সংসদ ভবনের ‘মকর দ্বার’-এর সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখান ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদেরা। এর পাল্টা হিসেবে সংসদ চত্বরে ধর্নায় বসেন এনডিএ-র সাংসদেরাও। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক লাভের উদ্দেশ্যে রাহুল গান্ধী দেশের ছাত্র-যুব সমাজকে বিভ্রান্ত করছেন।
এই প্রসঙ্গে রিজিজু আরও বলেন, শুধু রাজনীতি না করে নিট-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে যেসব পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলি নিয়ে সংসদে খোলামেলা আলোচনা হওয়া দরকার। সরকারের পক্ষ থেকে সেই আলোচনায় কোনও আপত্তি নেই।


