পশ্চিম মেদিনীপুর: দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, মাঝপথে কপ্টারের জরুরি অবতরণ! সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে মঙ্গলবার কেশপুরের মোহবনিতে পৌঁছে শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর ভিটেতে শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ১১ অগস্ট, ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদানের দিনে তাঁর জন্মভিটেতে দাঁড়িয়েই একাধিক সংস্কার ও সংরক্ষণমূলক পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
ক্ষুদিরামের বাড়িতে এবার তৈরি হবে সংগ্রহশালা ও গ্যালারি। থাকবে লেজার শো-এর ব্যবস্থাও। শুধু স্মৃতির সংরক্ষণ নয়, ক্ষুদিরাম বসু এবং পূর্ব মেদিনীপুরের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে গবেষণা করতে আগ্রহীদের জন্য থাকার ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন ক্ষুদিরামের আত্মত্যাগ স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে শুধু আনুষ্ঠানিক স্মরণে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে বিপ্লবীদের জীবন ও সংগ্রামের ইতিহাস আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) কথায়, “সিলেবাসের ৪ লাইনে আটকে রাখা হয়েছে ক্ষুদিরামকে। তা করলে হবে না।” স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, সব স্তরেই ক্ষুদিরামের ইতিহাস আরও বেশি করে পড়ানোর জন্য শিক্ষাদপ্তরের কাছে আবেদন জানান তিনি।
এদিনের কর্মসূচির আগে অবশ্য তৈরি হয়েছিল কিছুটা অনিশ্চয়তা। সকালে খারাপ আবহাওয়ার কারণে মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) কপ্টারকে মাঝপথে জরুরি অবতরণ করতে হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কেশপুরের (Suvendu Adhikari) উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই প্রথম ১১ অগস্ট ক্ষুদিরাম বসুর মৃত্যুদিনকে ঘিরে মোহবনিতে এভাবে সরকারি স্তরে কর্মসূচি এবং সংস্কার পরিকল্পনা সামনে এল। ফলে শুধু স্মৃতিসৌধ সংস্কার নয়, ক্ষুদিরামের ইতিহাসকে আগামী প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ হিসেবেও এদিনের ঘোষণাকে দেখা হচ্ছে।
ক্ষুদিরামের ভিটেতে সংগ্রহশালা, গ্যালারি, লেজার শো এবং গবেষকদের থাকার ব্যবস্থা, সব মিলিয়ে মোহবনিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাই এদিনের ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে।


