কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) রাতভর সংঘর্ষের রেশ এবার আছড়ে পড়লো হাইকোর্টের দরজায়! ফেটসু-র সাধারণ সভা বা GB-কে কেন্দ্র করে বুধবার রাতের সংঘর্ষের পর আজও সকাল থেকেই উত্তপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর সহ পার্শ্ববর্তী এলাকা! SFI-ABVP-র রাতের বিক্ষোভ, হাতাহাতি এবং দুই পক্ষের পড়ুয়াদের আহত হওয়ার ঘটনার রেশ এবার পৌঁছল কলকাতা হাই কোর্টে। বৃহস্পতিবার ঘটনার দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হলেও তা গ্রহণ করেনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ। নতুন করে মামলা দায়ের করার পরামর্শ দিয়েছে আদালত!
জানা গিয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) সংক্রান্ত একটি মামলা ইতিমধ্যেই হাই কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। বুধবার রাতের সংঘর্ষের বিষয়টিকে সেই মামলার সঙ্গে যুক্ত করে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন করা হয়। তবে আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই ঘটনার জন্য নতুন মামলা দায়ের করেই আসতে হবে। ফলে আপাতত ওই আবেদনের ভিত্তিতে কোনও শুনানি হল না।
কী নিয়ে শুরু অশান্তি?
বুধবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) FETSU-র সাধারণ সভা ডাকা হয়েছিল। এই সভাকে কেন্দ্র করেই ABVP এবং বাম ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে প্রথমে বচসা এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয় বলে অভিযোগ।
ABVP-র বক্তব্য, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও নির্বাচিত ছাত্র ইউনিয়ন নেই। সেই পরিস্থিতিতে কীভাবে GB ডাকা হল, তা নিয়েই তারা প্রশ্ন তুলেছিল। সংগঠনের অভিযোগ, ওই প্রশ্ন তোলার পরই বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া তাঁদের সদস্যদের উপর চড়াও হন।
অন্যদিকে, বাম ছাত্র সংগঠনগুলির বক্তব্যে ঘটনার ভিন্ন ছবি উঠে এসেছে। তাঁদের দাবি, GB-কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির মধ্যেই ABVP সদস্যদের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ে। শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের সংঘর্ষে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
রাতের ঘটনায় দুই পক্ষেরই কয়েকজন পড়ুয়া আহত হন। তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আজ ফের মুখোমুখি দুই পক্ষ
বুধবারের ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার পৃথক কর্মসূচির ডাক দিয়েছে SFI এবং ABVP। ফলে ফের সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকায়। ABVP-র তরফে গোলপার্ক থেকে মিছিল করে যাদবপুর থানার দিকে যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। ইতিমধ্যেই থানার সামনে সংগঠনের সদস্যরা জমায়েত করতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে, ৮বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে জমায়েতের ডাক দিয়েছে SFI। সংগঠনের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে কোনও সংগঠনের ‘মাতব্বরি’ তারা মেনে নেবে না।
দুই পক্ষের পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি যাতে ফের উত্তপ্ত না হয়ে ওঠে, তার জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University), ৮বি, গোলপার্ক এবং সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। মোতায়েন রয়েছে পুলিশও।
এখন নজর আদালত ও ক্যাম্পাসে
একদিকে বুধবার রাতের সংঘর্ষের তদন্ত ও তার রাজনৈতিক অভিঘাত, অন্যদিকে বৃহস্পতিবারের পৃথক কর্মসূচি! দুই মিলিয়ে যাদবপুরে পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তার উপর দ্রুত শুনানির আবেদন হাই কোর্ট গ্রহণ না করায় বুধবারের ঘটনার আইনি দিকটিও আপাতত নতুন মামলার দিকে এগোচ্ছে।
মূল বিতর্ক অবশ্য এখনও সেই জায়গাতেই, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়ন না থাকা সত্ত্বেও GB ডাকার প্রশ্নটি কীভাবে সংঘর্ষের দিকে গড়াল? আর বুধবার রাতের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দুই ছাত্র সংগঠনের পাল্টা কর্মসূচি কি ফের উত্তেজনা বাড়াবে? যাদবপুরের পরিস্থিতির দিকে এখন নজর প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং আদালত, তিন পক্ষেরই।


