Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : সাধারণভাবেই প্রতিবেশীর থেকে বন্ধুর উপর আমরা বেশি ভরসা করি। কিন্তু সেই বন্ধু যদি প্রতিবেশীকে সাহায্য করতে নেমে পড়ে তখন ভরসার জায়গাটুকু ভেঙে যায়। ঠিক এমনই হয়েছে ভারতের সাথে। অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) এক বছর পর প্রথমবার প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে সামরিক ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার কথা স্বীকার করল চিন।
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় জঙ্গি হামলায় ২৬ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এই হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার সহযোগী সংগঠন TRF-কে দায়ী করে। এরপর ৭ মে ভারত “অপারেশন সিঁদুর” (Operation Sindoor) শুরু করে। ভারতীয় সেনার ত্রিস্তরীয় অভিযানে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং দাবি করেছিলেন, এই অভিযানে ১০০-রও বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছে।
কী জানালেন চীনা ইঞ্জিনিয়াররা ?
চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চীনের অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশনের (AVIC) ইঞ্জিনিয়ার ঝ্যাং হেং জানিয়েছেন, সেই অপারেশন সিঁদুরে (Operation Sindoor) ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় তিনি পাকিস্তানে উপস্থিত থেকে জে-১০ যুদ্ধবিমান ও সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করার কাজে যুক্ত ছিলেন। ঝ্যাং হেং বলেন, “সাপোর্ট বেসে আমরা নিয়মিত যুদ্ধবিমান ওড়ার এবং এয়ার রেইড সাইরেনের শব্দ শুনতাম। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছে।” তিনি আরও জানান, তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের জে-১০CE যুদ্ধবিমান এবং সংশ্লিষ্ট সিস্টেমকে “পূর্ণ যুদ্ধক্ষমতায়” পরিচালিত করা। আরও এক চীনা ইঞ্জিনিয়ার শু দা বলেন, জে-১০CE যুদ্ধবিমানকে তাঁরা “নিজেদের সন্তানের মতো” তৈরি করেছেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তার কার্যকারিতা নিয়ে তাঁদের কোনও সন্দেহ ছিল না।
পাকিস্তানের অস্ত্রভাণ্ডারে চিনের আধিপত্য
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পাকিস্তানের মোট অস্ত্র আমদানির প্রায় ৮০ শতাংশই এসেছে চিন থেকে। পাকিস্তান বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান শক্তি JF-17 যুদ্ধবিমান, যা যৌথভাবে তৈরি করেছে চিন ও পাকিস্তান। পাকিস্তান বর্তমানে জে-১০C সিরিজের একমাত্র বিদেশি ব্যবহারকারী দেশ। ২০২০ সালে ইসলামাবাদ চিনের কাছ থেকে ৩৬টি জে-১০C যুদ্ধবিমান এবং বিপুল সংখ্যক PL-15 ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তি করে।
ভারতের আগের অভিযোগে সিলমোহর?
২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভারতীয় সেনার ডেপুটি চিফ অব আর্মি স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল সিং বলেছিলেন, পাকিস্তানের পাশাপাশি চিনও পরোক্ষভাবে ভারতের বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিল। তাঁর অভিযোগ ছিল, চিন পাকিস্তানকে “সমস্ত ধরনের সহায়তা” দিচ্ছে এবং নিজেদের অস্ত্রগুলির যুদ্ধক্ষেত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখছে।
চীনা ইঞ্জিনিয়ারদের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই অভিযোগকেই নতুন করে সামনে এনে দিল বলে মনে করছে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ।


