Aaj India Desk,কলকাতা: বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পরেই বাংলায় নতুন করে মন্ত্রিসভা গঠন হচ্ছে, অর্থাৎ নতুন সরকার গঠনের পথে ভারতীয় জনতা পার্টি , ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী তথা শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হয়েছে , সেই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শপথ গ্রহণের পাশাপাশি আরও ৫ জনও শপথ গ্রহণ করেন। তালিকায় ছিলেন দিলীপ ঘোষ ,অগ্নিমিত্রা পাল ,নিশীথ প্রামাণিক,অশোক কীর্তনিয়া সহ ক্ষুদিরাম টুডু।
ক্ষুদিরাম টুডুর পরিচয়
রানিবাঁধের ভূমিপুত্র ক্ষুদিরাম টুডু , পেশায় শিক্ষকতা করেন। আদিবাসী সমাজে শিক্ষার আলোকে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে রাজনীতিতে নামেন ক্ষুদিরাম , তার নামই প্রমাণ করে লড়াকু মনোভাব ,প্রথম সারির চর্চিত মুখ নন, বড় মাপের জনসভায় বা আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন এমন ও না , তবু ব্রিগেডের ঐতিহাসিক শপথ মঞ্চে যখন একে একে মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা হচ্ছিল, দিলীপ ঘোষ ও অগ্নিমিত্রা পালের পর উচ্চারিত হয় ক্ষুদিরাম টুডুর নাম। আর তারপরই যেন জঙ্গলমহলের এক অন্য বার্তা পৌঁছে যায় গোটা বাংলায়।
রানিবাঁধের বিধায়ক, আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধি ক্ষুদিরাম টুডু শপথ নিলেন নিজের মাতৃভাষা অলচিকিতে। দেশের প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ একাধিক হেভিওয়েট নেতার সামনে মাতৃভাষায় শপথ শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, আদতে এটা ছিল নিজের সংস্কৃতির প্রতি নিজের ভাষার প্রতি নিষ্ঠা ও ভালোবাসা ঠিক এমনটাই মনে করছেন অনেকে। পাশাপাশি বিজেপি তাঁকে পূর্ণমন্ত্রী করে কার্যত জঙ্গলমহল ও আদিবাসী সমাজের প্রতি রাজনৈতিক বার্তাও দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
সব মিলিয়ে, ক্ষুদিরাম টুডুর শপথ গ্রহণ শুধু রাজনৈতিক দিক থেকেই নয়, ভাষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিত্বের কারণেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে অলচিকি ভাষায় শপথ নেওয়ার ঘটনাটি অনুষ্ঠানে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে বলেই মনে করছেন অনেকে।


