Aaj India desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন মিটে গেছে, রাজ্য পেয়েছে নতুন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলা দিদিকে নয় , বেছে নিয়েছে দাদাকেই। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ বিকেল ৪ টায় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হবেন তৃণমূল সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পরেও নিজের সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে এখনও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই চিহ্নিত করে রেখেছেন মমতা (Mamata Banerjee)! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক প্রোফাইলে গেলে আপনি এখনও দেখতে পাবেন সেখানে জ্বল জ্বল করছে সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ(Honarable Chief Minister, West Bengal)।
জেদ নাকি কৌশল?
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা(Mamata Banerjee) ঘোষণা করেছিলেন তিনি পদত্যাগ করবেন না কারণ তিনি হারেননি! এই নিয়ে অনেক সমালোচনা হয় কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজ্যপাল এন রবিকে সরকার ফেলে দিতে হয়, কারণ মমতা পদত্যাগ শেষ দিন অব্দি করেননি। প্রশ্ন ওঠে এইভাবে পদে থেকে যাওয়া কি আসলে কোনো কৌশল?
২০১১ সালে যখন বাম সরকারের পতন হওয়ার পর বামফ্রন্টের শক্তিশালী সংগঠন দ্রুত ভেঙে পড়েছিল। সঙ্গে ছিল তৃণমূলের অত্যাচার। এবারেও ফল ঘোষণার পর বিজেপি একইভাবে বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল করে নিয়েছে। অনেক কর্মী রাতারাতি দল বদলে নিয়েছে। মমতার এই কৌশলের পেছনে অতীতের সেই অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ । মমতা (Mamata Banerjee) -জানেন, ক্ষমতা হারানোর পর সংগঠন ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন। আর সংগঠনহীন দলের ক্ষমতায় ফেরা আরও কঠিন।
পরাজয় মানা কি কঠিন?
এক সময় তাঁর সহযোদ্ধা, তৃণমূলে দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য নিজের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলে ধরতে গিয়ে তাকে অবহেলা করেন মমতা। শুভেন্দুও বদলা নিয়েছেন। বিরোধী দল বিজেপিতে গিয়ে একদিকে নিজের নামের সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগকে ধামা চাপা দিয়েছেন, অন্যদিকে নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ারকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাঁর হাত ধরেই রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। পরপর দুবার মমতাকে(Mamata Banerjee) নির্বাচনে হারিয়ে আজ মমতারই সাংবিধানিক পদ দখল করে নিয়ে নিজের প্রতিশোধ সম্পন্ন করেছেন শুভেন্দু। নির্বাচনের পরাজয় যদি বা মানা যায়, এই পরাজয় হজম করা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিসি মমতার পক্ষে বাস্তবিক কঠিন।


