Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে প্রথমে সরব হয়েছিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) শিবির। বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি ছিল, ওই অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহার করে চার্টার্ড বিমানে যাতায়াত করা হয়েছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জুন মাসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-কে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে সংসদে ডাকা হয়েছিল। একই সময়ে তৃণমূলের ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করা হয়। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে (HighCourt) মামলা চলছে।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার সকালে এই মামলায় সক্রিয় হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কলকাতার রাজারহাট, রাধাবাজার, সল্টলেক-সহ মোট পাঁচটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন নামে একটি সংস্থা, যাদের কাছ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চার্টার্ড বিমান ভাড়া নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সংস্থার অফিসের পাশাপাশি তাদের এক ডিরেক্টরের বাড়িতেও তল্লাশি চলছে।
তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক লক্ষ্য, তৃণমূলের ওই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে সত্যিই চার্টার্ড বিমানের ভাড়া মেটানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা। মঙ্গলবার সকালে ইডি আধিকারিকরা সল্টলেকের সিজি-১৬ এলাকার পবন জাজু ও রাজেশ জাজুর বাড়িতেও পৌঁছন। সেখানে তল্লাশি চললেও এখনও পর্যন্ত কী নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, তা জানা যায়নি।
প্রসঙ্গত, তৃণমূলে ভাঙনের পর থেকেই দলের আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ঋতব্রত শিবির অভিযোগ তোলে, কিছু লেনদেনে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। এরপর তৎকালীন দলের কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় চিঠি দিয়ে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানান।
অন্যদিকে, বিধানসভা ভোটে ক্ষমতা হারানোর পর দলের অন্দরে যখন অসন্তোষ বাড়ছিল এবং একাধিক নেতা-কর্মী পুলিশি পদক্ষেপের মুখে পড়ছিলেন, তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার্টার্ড বিমানে দিল্লি-কলকাতা যাতায়াত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই বিলাসবহুল সফরের খরচ কোথা থেকে এসেছে, তা নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়। সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই এখন আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে ইডি।


