Aaj India Desk, কলকাতা: আরজি কর মামলায় (RG Kar Case) তদন্তের গতি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের (Kolkata High Court) তীব্র অসন্তোষের পরই নড়েচড়ে বসল সিবিআই (CBI)। আদালতের নির্দেশের পর নতুন করে তদন্তে গতি আনতে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পৌঁছে গেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ দল। সূত্রের খবর, সিবিআই আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই হাসপাতালের অধ্যক্ষের ঘরে গিয়ে কথা বলা শুরু করেছেন।
এক মহিলা-সহ তিন সিনিয়র আধিকারিক
বুধবার আরজি কর হাসপাতালে সিবিআইয়ের যে দলটি পৌঁছেছে, তাতে রয়েছেন তিন জন সিনিয়র আধিকারিক। তাঁদের মধ্যে এক জন মহিলা অফিসারও রয়েছেন। তদন্তের অংশ হিসেবে হাসপাতালের একাধিক কর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
জানা গিয়েছে, মোট ন’জনকে তলব করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চার জন নার্স রয়েছেন। এছাড়াও দু’জনকে কোচবিহার থেকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। প্রায় দু’বছর আগে ওই দু’জনই আরজি কর হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। মামলার তদন্তে তাঁদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
কেন ফের সক্রিয় হল CBI?
আরজি কর মামলার আগের শুনানিতে সিবিআইয়ের তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে কলকাতা হাই কোর্ট। গত বছরের ৭ অক্টোবর ২৪ পাতার প্রাথমিক চার্জশিট জমা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে কী ধরনের তদন্ত হয়েছে, তা নিয়ে আদালত জানতে চায়। শুধু চার্জশিট জমা দিয়ে তদন্তের দায়িত্ব শেষ করা যায় না বলেও স্পষ্ট করে দেয় আদালত।
আদালতের নির্দেশ ছিল, ঘটনার রাতে নির্যাতিতা চিকিৎসকের সহকর্মীদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া থেকে শুরু করে তাঁর শেষকৃত্য পর্যন্ত পুরো সময়ের ঘটনাক্রম নতুন করে খতিয়ে দেখতে হবে। সেই সময় কারা উপস্থিত ছিলেন, কী কী ঘটেছিল এবং পরিবারের পক্ষ থেকে ওঠা দাবিগুলি কেন যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না— তা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।
যদিও সিবিআই আদালতে জানিয়েছিল, তদন্ত বন্ধ হয়নি। তাদের দাবি, এখনও পর্যন্ত মামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জনের বক্তব্য ও সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে হাই কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণের পর আরজি কর হাসপাতালে নতুন করে আধিকারিকদের পাঠানো এবং একাধিক ব্যক্তিকে তলব করায় তদন্তের পরিধি যে আরও বাড়ানো হচ্ছে, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।


