30 C
Kolkata
Friday, August 7, 2026
spot_img

‘পাথরসম্রাট’ টুলুর ‘কোডেড’ হিসেব ভাঙতে নামলেন CA-IPS! ‘গুপ্ত খাতা’-তেই কোটি টাকার রহস্য?

কলকাতা: ল্যাপটপ, হার্ড ড্রাইভ আর পেনড্রাইভে বন্দি কোটি কোটি টাকার হিসাব। কিন্তু সেই হিসাব সাধারণ ভাষায় লেখা নয়। কোথাও সংক্ষিপ্ত শব্দ, কোথাও সাংকেতিক চিহ্ন, আবার কোথাও এমন বিশেষ পদ্ধতি, যার অর্থ না বুঝলে লেনদেনের আসল ছবি ধরা কার্যত অসম্ভব। আর সেই ‘কোড’ ভাঙার দায়িত্ব এবার এমন এক পুলিশ আধিকারিকের হাতে, যাঁর পুলিশের চাকরিতে আসার আগের পরিচয় ছিল চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। বীরভূমের ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডলের (Tulu Mondal) আর্থিক সাম্রাজ্যের রহস্যভেদে তাই পুলিশের তদন্তে যুক্ত হয়েছে এক অভিনব সমীকরণ, পুলিশি তদন্তের সঙ্গে পেশাদার হিসাবরক্ষকের অভিজ্ঞতা।

তদন্তে উঠে এসেছে, টুলু মণ্ডলের (Tulu Mondal) ব্যবসার বিভিন্ন আর্থিক হিসাব সংরক্ষণ করতেন হিসাবরক্ষক পিনাকী দেব। তাঁকে সহযোগিতা করতেন পার্থসারথি নামে আরও এক ব্যক্তি। দু’জনকেই হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকেই উদ্ধার হয়েছে দুটি ল্যাপটপ, একাধিক পেনড্রাইভ এবং হার্ড ড্রাইভ। কিন্তু ডিভাইস হাতে পেয়েই রহস্যের সমাধান হয়নি। বরং সামনে এসেছে আরও বড় ধাঁধা।

পুলিশ সূত্রের দাবি, কোটি কোটি টাকার লেনদেনের হিসাব রাখা হয়েছিল হিসাবরক্ষকদের নিজস্ব সংক্ষিপ্ত ভাষা, সাংকেতিক চিহ্ন এবং বিশেষ হিসাবরক্ষণ পদ্ধতিতে। ফলে কোনও একটি অঙ্ক বা এন্ট্রি চোখে পড়লেও তার পিছনে আসলে কোন লেনদেন, কার কাছ থেকে টাকা এসেছে, কোথায় গিয়েছে, তা সরাসরি বোঝা যাচ্ছিল না। আর ঠিক এখানেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বোলপুরের এসডিপিও অর্পিত আর পারেখের ভূমিকা।

পুলিশে যোগ দেওয়ার আগে তিনি পেশাদার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করেছেন বলে জানা যাচ্ছে। সেই অভিজ্ঞতাই এবার কাজে লাগছে টুলুর (Tulu Mondal) আর্থিক নথি বিশ্লেষণে। হিসাবরক্ষকদের ব্যবহৃত সাংকেতিক ভাষা এবং পদ্ধতি বুঝে প্রতিটি এন্ট্রির অর্থ বের করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কোটি কোটি টাকার হিসাব মিলিয়ে তৈরি করা হচ্ছে তদন্তের উপযোগী পূর্ণাঙ্গ আর্থিক নথি।

শুধু কাগজে-কলমে হিসাব মেলানো নয়, ট্যালি এবং এক্সেল শিটে তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ লেনদেনের তালিকা। অর্থাৎ কোন খাত থেকে টাকা ঢুকেছে, কোন খাতে বেরিয়েছে এবং বিভিন্ন লেনদেনের মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেই ‘মানি ট্রেইল’ সামনে আনার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে যখন তদন্তকারীদের হাতে থাকা হিসাবের বড় অংশই নাকি রয়েছে হিসাবরক্ষকদের নিজস্ব সাংকেতিক পদ্ধতিতে, তখন একটি মুছে যাওয়া ফাইল, পুরনো স্প্রেডশিট কিংবা কোনও অসম্পূর্ণ হিসাবও তদন্তের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে এখন নজর শুধু ‘কী পাওয়া গেল’-এ নয়। নজর ‘কী পাওয়া গেল না’-তেও।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন