Aaj lndia Desk,কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে হকার উচ্ছেদ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন নয়। বরং গত তিন দশকের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ক্ষমতায় যে দলই এসেছে, অবৈধ দখল সরাতে কোনো না কোনো সময় বুলডোজার অভিযান চালিয়েছে। বদলেছে শুধু সরকারের মুখ, আর বদলেছে রাজনৈতিক ভাষা।
১৯৯৬ সালে বাম সরকারের আমলে কলকাতার হাতিবাগান, গড়িয়াহাট, শ্যামবাজার, ধর্মতলা-সহ একাধিক এলাকায় রাতারাতি হাজার হাজার হকারের দোকান ভেঙে দেওয়া হয়। তখন সরকারের যুক্তি ছিল শহরকে দখলমুক্ত করা জরুরি।
পরে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে হকারদের জীবিকা ও পুনর্বাসনের প্রশ্ন সামনে আসে। সেই সময়েও বিভিন্ন জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে।
অন্যদিকে, সেই সময়ের বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) হকার উচ্ছেদের বিরোধিতা করে প্রশ্ন তুলেছিলেন কার অনুমতিতে দোকান বসল, প্রশাসন এতদিন কী করছিল, আর গরিব মানুষের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা কোথায়? কিন্তু বর্তমানে বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্য এবং পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি পরিচালিত পুর এলাকাতেও উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে একই বিতর্ক দেখা যাচ্ছে।
তাহলে প্রশ্ন একটাই ক্ষমতায় থাকলে কি উচ্ছেদই একমাত্র সমাধান, আর বিরোধী দলে থাকলেই হকারদের পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতি?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কিন্তু অন্য জায়গায়। ফুটপাত, রেলের প্ল্যাটফর্ম কিংবা সরকারি জমিতে বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার দোকান গড়ে উঠল কীভাবে? রাজনৈতিক প্রশ্রয়, প্রশাসনিক নীরবতা বা স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতা ছাড়া কি এত বড় দখল সম্ভব? যদি তা-ই হয়, তাহলে শুধু হকারদের উচ্ছেদ করলেই কি দায় শেষ? যারা বছরের পর বছর এই ব্যবস্থা চলতে দিয়েছে, তাদের জবাবদিহি কোথায়?
হকারদের বিরুদ্ধে বুলডোজার নামছে, কিন্তু তাদের সেখানে বসার সুযোগ করে দিয়েছিল কারা এই প্রশ্নের উত্তর আজও রাজনীতির করিডরে হারিয়ে গেছে।


