Aaj India Desk, কলকাতা: ভোটকে ঘিরে রাজ্যে যাতে কোনও ভয়ভীতি না থাকে, সে কথা বারবার জানিয়ে আসছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট করাতে একের পর এক পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। এর মাঝেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO)-র একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে।
অভিযোগ, একটি বলিউড গান (Bollywood Song)-এর মাধ্যমে ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা দেওয়া হয়েছিল ওই পোস্টে। যদিও সেখানে কোনও রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবুও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তা শাসক দল তৃণমূল (TMC)-কে উদ্দেশ্য করেই করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন। তিনি দক্ষিণ কলকাতার DEO-র কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন। কেন এই পোস্ট করা হয়েছিল এবং এর উদ্দেশ্য কী-তা স্পষ্টভাবে জানাতে বলা হয়েছে। দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ওই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পরই প্রতিবাদ জানায় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচন আধিকারিককে অবিলম্বে সরাতে হবে। এই নিয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। তাছাড়াও রাজ্য সভার সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন ও এই পোস্ট-এর বিরুদ্ধে সরব হন। পাশাপাশি, বিতর্কিত পোস্টটি মুছে ফেলার দাবিও তোলা হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, এই ধরনের পোস্ট জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ধারা ১২৩(২)-এর পরিপন্থী। তাদের দাবি, কোনও রকম প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব খাটানোর চেষ্টা আইন অনুযায়ী দুর্নীতিমূলক কাজ হিসেবে ধরা হয়, এবং এই পোস্ট সেই নিয়ম ভেঙেছে।
পুরো বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ওই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টটি। সেখানে মাধুরী ও আমিরের সিনেমার গানের একটি লিঙ্ক দেওয়া হয়েছে। গানটি হল-“হাম প্যায়ার করনে ওয়ালে, দুনিয়া সে না ডরনে ওয়ালে/ ইয়ার জ্বলনে ওয়ালে কো জ্বালায়েঙ্গে…”। সঙ্গে লেখা ছিল, সকল ভোটার—বিশেষ করে মা, বোন ও ভাইদের-নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একইসঙ্গে সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়, যদিও কিছু লোক এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জ্বলতে পারে। গুণ্ডা, দাগী অপরাধীরা সাবধান। তাই আগে থেকেই বার্নল বা বোরোলিন মজুত রাখুন। নইলে উত্তাপ এতটাই তীব্র হবে যে আপনারা ভেতর থেকে পুড়ে যাবেন।” এই পোস্ট সামনে আসার পর থেকেই বিতর্ক তীব্র হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ করে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছে।


