aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এক এক করে খুলছে পুরনো ফাইল। আগের অভিযোগগুলি আবার নতুন করে তদন্ত করা হচ্ছে। এই আবহে ফের বিতর্কে উঠে এলো তৃনমূলের আরেক নেতার নাম। এবার তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি এবং অভিষেক ঘনিষ্ঠ মইদুল ইসলামকে (Maidul Islam) আটক করলো ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ। ২০২২ সালের আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলাসহ একাধিক অভিযোগের সূত্র ধরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিগত কয়েকদিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একাধিকবার দেখা গিয়েছে মইদুলকে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিজিও কমপ্লেক্সে অভিষেকের হাজিরার সময়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কালীঘাটের বাসভবনেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল। এরপর সোমবার বাইকে করে অন্যত্র যাওয়ার সময় হটুগঞ্জ এলাকা থেকে মইদুল ইসলামকে (Maidul Islam) আটক করা হয়। পরে তাঁকে ডায়মন্ড হারবার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তদন্তকারী আধিকারিকরা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
কী নিয়ে অভিযোগ?
মইদুল ইসলামের (Maidul Islam) বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ২০২২ সালের একটি আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা। তদন্তকারীদের দাবি, ওই মামলায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে আগেও তদন্ত হয়েছিল এবং বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছিল। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আরও কয়েকটি অভিযোগের নথিও সম্প্রতি নতুন করে খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
চাপ বাড়ছে অভিষেকের উপর ?
সাম্প্রতিক সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের উপর ক্রমশ চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে তাঁর আপ্ত সহায়ক ও ঘনিষ্ঠ সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে পশ্চিম মেদিনীপুরের আদালত জমি প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। পুলিশ সুমিত রায়কে খুঁজতে ভোররাতে অভিষেকের কালীঘাটের বাসভবনে অভিযান চালায়, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। পাশাপাশি সই জালিয়াতির মামলায়ও বারবার অভিষেককে তলব ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাইমারি টিচার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায়ও ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হচ্ছে অভিষেককে। এর মধ্যেই ফের তাঁর ঘনিষ্ট শিবিরে নজর পড়েছে পুলিশের। এবার এই মামলা কতদূর গড়ায় সেটাই দেখার।


