Aaj India Desk, কলকাতা : আশাকর্মীদের নিয়ে মন্তব্য করার পরেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে সলতোরার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরিকে (Chandana Bauri) ঘিরে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার সকালে চন্দনাকে হুঁশিয়ারি দিলো তৃনমূল কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, “ক্ষমতায় আসার সাথে সাথেই এত অহংকার পতনের কারণ হতে পারে।”
কী বলেছিলেন চন্দনা বাউরি?
মঙ্গলবার নিজের গাড়িতে বসেই চন্দনা বাউরি (Chandana Bauri) আশাকর্মীদের দেখে তড়পে ওঠেন। তিনি রীতিমতো অভিযোগ করে বলেন, “আপনারা আশাকর্মী হয়েছেন কীকরে ? চুরি করে চাকরি পেয়েছেন আপনারা। যা চাইবেন তাই করা হবে নাকি ?” পাশাপাশি তিনি বলেন, “আপনাদের যা যা কাজ দেওয়া হবে সবই করতে হবে। দরকার পড়লে লোক রাখুন সাহায্যের জন্য। স্বামী আছে, ছেলে আছে, তাদের সাহায্য নিন। এটা মগের মুলুক নয়। আপনাদের ট্রেনিং দেওয়া হয় কাজের জন্য।”
পাল্টা হুঁশিয়ারি তৃনমূল কংগ্রেসের
চন্দনা বাউরির (Chandana Bauri) সেই মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই এক্স (পূর্বে টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে পাল্টা আক্রমণ শানায় তৃণমূল কংগ্রেস। পোস্টের শুরুতেই লেখা হয়, “অহংকারই পতনের সূচনা”। এরপর গত তিন মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কর্মী, নেতা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে তোলা বিভিন্ন অভিযোগের উল্লেখ করে দাবি করা হয়, দলটির একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হিংসাত্মক অপরাধ, অশালীন ভাষা ব্যবহার, হুমকি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অভিযোগ ক্রমশ বাড়ছে। এই প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলের অভিযোগ, যাঁরা মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন, তাঁদের সম্পর্কে বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরির এই ধরনের মন্তব্য অপমানজনক।
পোস্টে সাম্প্রতিক নির্বাচনী জয় নিয়েও কটাক্ষ করে আক্রমণ করা হয় চন্দনা বাউরিকে। সেখানে লেখা হয়, “ম্যাডাম, আপনি ভোট চুরি করে জিতেছেন। তাই হয়তো ধরে নিচ্ছেন, সবাই আপনার নিয়মেই চলে।” একই সঙ্গে বিধায়ককে অহংকার ছেড়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্মানজনক ও শালীন ভাষায় কথা বলার আহ্বানও জানানো হয়।
উল্লেখ্য, বাঁকুড়ার সলতোরা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম পরিচিত তৃণমূলস্তরের রাজনৈতিক মুখ। ২০১৪ সালের দিকে বিজেপির কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করে ধাপে ধাপে সংগঠনে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার সলতোরা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন এবং ২০২৬ সালেও বড় ব্যবধানে আসন ধরে রাখেন। সাধারণ জীবনযাপন ও তৃণমূলস্তরের সংগঠক হিসেবে তাঁর পরিচিতি থাকলেও এই বিতর্ক এবং আশাকর্মীদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া কিভাবে আগামী দিনে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে প্রভাব ফেলে সেটাই দেখার।


