27 C
Kolkata
Monday, April 20, 2026
spot_img

বিজেপি নেতাই মাইক্রো অবজারভার ! নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে ফের প্রশ্ন তৃনমূলের !

Aaj India Desk, বীরভূম : ভোটের প্রথম দফার আগে নানুরের কির্নাহারে মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ ঘিরে ফের বিতর্কে চাপে কমিশন (Election Commission of India)। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগের ভিত্তিতে রাতারাতি দায়িত্ব থেকে সরানো হয় অভিযুক্ত কর্মীকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।

শনিবার নানুরের কির্নাহার এলাকায় বুথ নম্বর ১৪৯-এ ‘অ্যাবসেন্টি ভোটার’-দের ভোট সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন অজয় সাহা নামে এক মাইক্রো অবজারভার।অভিযোগ, তিনি স্থানীয়ভাবে ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে যুক্ত একজন পরিচিত মুখ। এই অভিযোগ সামনে আসতেই আপত্তি জানায় তৃনমূল কংগ্রেস। কিছু সময়ের জন্য ভোট সংগ্রহের কাজও বন্ধ থাকে।

তৃণমূলের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। অভিযুক্ত মাইক্রো অবজারভারকে সরিয়ে নতুন একজনকে নিয়োগ করা হয়। এরপর পুনরায় ভোট সংগ্রহ শুরু হয়।

স্থানীয় তৃণমূল কর্মী সুব্রত মুখার্জি বলেন,“একজন বিজেপি নেতাকে মাইক্রো অবজারভার হিসেবে নিয়োগ করা হলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আমরা সেই কারণেই কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।”

তবে অজয় সাহা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য,“আমি LIC-র ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসেবে কমিশনের দায়িত্ব পালন করছি। ২৫-৩০ বছর ধরে নির্বাচনী কাজে যুক্ত। কোনও রাজনৈতিক পদে নেই। তৃনমূলের সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন।”

বোলপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, “অনেক বছর ধরে উনি নির্বাচনী কাজে আছেন। হঠাৎ করে বিজেপি নেতা বলা হচ্ছে। তৃণমূল ঘনিষ্ঠ কর্মীরাও তো নির্বাচনে কাজ করছেন, সেটাও আমরা কমিশনকে জানাব।”

নানুরের এই ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ভোটের নিরপেক্ষতা আসলে কোথায়? যখন কোনও মাইক্রো অবজারভারকে নিয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগ ওঠে এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তাঁকে সরিয়ে দিতে হয়, তখন পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। যদিও কমিশন (Election Commission of India) দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে, তবুও এই ধরনের বিতর্ক যে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা কতটা চ্যালেঞ্জের তা স্পষ্ট করে ফুটিয়ে তোলে। ভোটারদের আস্থা বজায় রাখতে হলে শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়াই যথেষ্ট নয়, নির্বাচনের শুরু থেকেই এমন নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রয়োজন যেখানে পক্ষপাতিত্বের কোনও সুযোগই থাকবে না।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন